📌 পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দিতে হবে। তিনি 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬'-এ বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের উপর জোর দিতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতারও গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি
পররাষ্ট্রনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার দাবি তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬'-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অর্থনীতিকে কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে কূটনীতিকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে’।
- 📌 বিশ্বের পরিবর্তনশীল ক্ষমতা: তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠছে। বাংলাদেশকে শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ালে হবে না, ভবিষ্যৎ নির্মাণেও ভূমিকা রাখতে হবে।
- 📌 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রাধিকার: রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
- 📌 বঙ্গোপসাগরকে শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্র: তিনি বঙ্গোপসাগরকে শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তুলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতারও প্রয়োজনীয়তা জোরালো করেন।
- 📌 চারটি মূলনীতি: তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চারটি মূলনীতি তুলে ধরেন: জাতীয় স্বার্থের উপর জোর, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, অংশীদারত্ব সৃষ্টি এবং শান্তি লক্ষ্য।
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফর সম্ভাবনা: তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসে তুরস্কের জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদানের সম্ভাবনা বেশি।
- 📌 ভারত সফরের আলোচনা চলছে: তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে ভারতের সাথে আলোচনা চলছে। সফর সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল্লি থেকে আসবে।
📰 বিস্তারিত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক হতে হবে’। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং প্রযুক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন বদলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ালে হবে না, ভবিষ্যৎ নির্মাণেও ভূমিকা রাখতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও প্রসার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সুবিধা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সবার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে হবে’। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদেশস্থ মিশনগুলোকে নতুন বাজার অনুসন্ধান, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে’।
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমান্তপারের সহযোগিতা প্রয়োজন’।
বঙ্গোপসাগরকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে’।
"বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রযুক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন বদলে দিচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও কৌশলগত ও তীব্র হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ালে হবে না, ভবিষ্যৎ নির্মাণেও ভূমিকা রাখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!