📌 বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ বার সংশোধন সত্ত্বেও কিছু বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রয়েছে যা গণতন্ত্রের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আলী রীয়াজের বই থেকে উদ্ধৃত অংশে দেখা যায়, মৌলিক অধিকার সীমিতকরণ, জরুরি অবস্থার বিধান এবং ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের মতো বৈশিষ্ট্যগুলি গণতান্ত্রিক জবাবদিহির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার পর থেকে দেশটি বিভিন্ন শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কিন্তু সংবিধানের কিছু বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকায় জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। আলী রীয়াজের বই ‘বাংলাদেশের সংবিধান: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ভবিষ্যৎ’ থেকে প্রকাশিত অংশে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৭ বার সংশোধন সত্ত্বেও** বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রয়েছে যা গণতন্ত্রের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
- 📌 **মৌলিক অধিকার সীমিতকরণ** সংবিধানের ৩৬ থেকে ৩৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অধিকারগুলিকে শর্তসাপেক্ষ করে রাখা হয়েছে, যা তাদের কার্যকারিতাকে অবসিত করেছে।
- 📌 **জরুরি অবস্থার বিধান** ১৯৭৩ সালে যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের অধিকারের স্থগিতকরণের ক্ষমতা পায়।
- 📌 **৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে** সংসদ সদস্যদের দল ত্যাগের অধিকার সীমিত করা হয়েছে।
- 📌 **বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ** উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে কোনো আইনি নীতিমালা না থাকায় ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ ঘটেছে।
- 📌 **প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা** সংবিধান অনুযায়ী অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জবাবদিহির ব্যবস্থা ছাড়াই ক্ষমতা ভোগের সুযোগ করে দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। ১৭ বার সংশোধন সত্ত্বেও, কিছু বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রয়েছে যা গণতন্ত্রের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আলী রীয়াজের বই ‘বাংলাদেশের সংবিধান: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও ভবিষ্যৎ’ থেকে প্রকাশিত অংশে দেখা যায়, নাগরিকের অধিকার সীমিতকরণের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘মৌলিক অধিকারের সহিত অসামঞ্জস্য আইন বাতিল হইবে’। তবে তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলিকে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষ করে রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৩৬ থেকে ৩৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলিকে ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে’ শর্তসাপেক্ষ করে রাখা হয়েছে।
১৯৭৩ সালে সংবিধানে ‘জরুরি অবস্থা’ জারির বিধান যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের অধিকারের স্থগিতকরণের ক্ষমতা পেয়েছেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে এই বিধান ছিল না, কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪১(ক) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির কাছে ‘সন্তোষজনক ভাবে প্রতীয়মান’ হলেই জরুরি অবস্থা জারি করা যাবে এবং এই সময়ে নাগরিকদের অধিকার স্থগিত করা যাবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম আলোচিত অনুচ্ছেদ ৭০ অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদের লক্ষ্য হচ্ছে, কোনো সংসদ সদস্য তাঁর দল ত্যাগ করতে না পারেন। এছাড়াও, বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ ঘটেছে।
সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদান করেছে। এই ব্যবস্থা ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময়ই করা হয়েছিল। ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের সূচনা হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাঁর দলের প্রশ্নহীন আনুগত্যের কারণে। সংসদ প্রতিষ্ঠার পরও অবস্থার কোনো বদল ঘটেনি, ফলে মুজিব কোনো রকমের জবাবদিহি ছাড়াই ক্ষমতা ভোগ করতে থাকেন।
"মৌলিক অধিকারগুলোর দীর্ঘ তালিকা থাকলেও এবং ১০২ অনুচ্ছেদের ১ থেকে ৫ উপধারায় আদালতকে তা কার্যকর করার অধিকার দেওয়া হলেও, জনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ শর্তসাপেক্ষ করার মধ্য দিয়ে তার কার্যকারিতায় প্রতিবন্ধক তৈরি করে রাখা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী রীয়াজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বার সংশোধন, ২৬ অনুচ্ছেদ, ৩৬ থেকে ৩৯ অনুচ্ছেদ, ৭০ অনুচ্ছেদ, ১০২ অনুচ্ছেদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!