📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন, ১৭ বছরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতিহাসের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ আর বাংলাদেশে কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। তিনি শেখ হাসিনার ফেরত আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ শনিবার রাজধানীর ধোলাইখালে এক সমাবেশে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে আর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ স্থায়ী থাকবে না। তিনি বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত এই শক্তিকে আর কোনো দিন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ আর বাংলাদেশে স্থায়ী থাকবে না
- 📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে; প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে
- 📌 শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত আনতে চেষ্টা করা হচ্ছে
- 📌 সরকারের সাত মাসের কাজের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, বিরোধী দলের লংমার্চ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ভিত্তিহীন
- 📌 জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে; দাম কমলে বাংলাদেশেও হারে কমিয়ে আনা হবে
- 📌 গণতন্ত্র সুসংহত রাখতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখাল–সংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের আর কোনো ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শেখ হাসিনার দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই, তিনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফেরত আসুক এবং বিচারের মুখোমুখি হোক। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা যে দেশে অবস্থান করছে, সেই দেশের সরকারকে আহ্বান জানাই, আপনারা তাদের ফিরিয়ে দিন। আমরা আন্তর্জাতিক মানের বিচার সম্পন্ন করেছি। বিচারপ্রক্রিয়ায় তারা চাইলে আপিলের সুযোগ পাবেন, তবে সাজা ভোগ করা বা বিচারের সম্মুখীন হওয়া থেকে কারোর রক্ষা নেই।’
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান পরিহার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এখন থেকে স্লোগান হবে রাজনৈতিক, যা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শহীদদের রক্তকে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের গত সাত মাসের কাজের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাপক জন–আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত হয়েছে। সরকার যখন রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষা, সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার কাজ করছে, তখন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাত মাসের মাথায় সরকার পতনের এক দফা এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচির হুংকার দিচ্ছে। বিরোধী দলকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও বিরোধীরা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁরা উত্তরের লংমার্চ শেষ করে দক্ষিণে যাচ্ছেন, আবার পূর্বে ও পশ্চিমে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের এই কৌশল বুঝে গেছে। চার বছরের মাথায় আন্দোলনের যুক্তি থাকলেও সাত মাসের মাথায় এ ধরনের তৎপরতা ভিত্তিহীন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সারা বিশ্বে এবং পাশের দেশে জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগ যেন না হয়, সে জন্য প্রথম এক মাস জ্বালানি তেলের দাম এক টাকাও বাড়াননি। তবে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই সর্বনিম্ন পরিমাণ মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। সাময়িক এই দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশ্বাস দেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমামাত্রই আনুপাতিক হারে বাংলাদেশেও তেলের দাম কমিয়ে আনা হবে।
দেশের মানুষকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজপথে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো হয়েছে। একইভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত রাখতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
"আমরাও চাই, তিনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফেরত আসুক এবং বিচারের মুখোমুখি হোক। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা যে দেশে অবস্থান করছে, সেই দেশের সরকারকে আহ্বান জানাই, আপনারা তাদের ফিরিয়ে দিন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, ধোলাইখাল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!