📌 ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে যুক্ত থাকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর নিজের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বাবা মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছেন।
সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর তার বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরের ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে যুক্ত থাকার বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং মুসলিম লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর তার বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরের ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে যুক্ত থাকার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন
- 📌 তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং মুসলিম লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন
- 📌 আসিফ দাবি করেন, তার বাবা শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছেন
- 📌 তিনি আরও জানান, তার বাবা ফাঁসির হাত থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রক্ষা করেছিলেন
- 📌 স্বাধীনতার পর তার বাবাকে কাস্টডিতে যেতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে মুক্তি পান
📰 বিস্তারিত
আসিফ আকবর জানান, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং মুসলিম লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৭১ সালে তার বাবা শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ।
তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার সদস্য ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল।’
এ সময় বাবার একটি ঘটনার কথাও জানান আসিফ। তার দাবি, তার বাবা ফাঁসির হাত থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা আছে বলেও জানান তিনি।
‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’
ছয় দফা নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানান আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর তার বাবা মুসলিম লীগের একজন প্রতিনিধি হিসেবে চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই চিঠি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ।
স্বাধীনতার পর তার বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও তুলে ধরেন আসিফ। তিনি জানান, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার জন্য কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আসিফের দাবি, নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তাই সেই পরামর্শ অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।
এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয় বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ আরও জানান, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াই করে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি বলেন, তার বাবা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পাননি। বরং আদালতে আইনি লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ আকবর, অ্যাডভোকেট আলী আকবর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ ডিসেম্বর, ১৭ ডিসেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!