📌 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন। তিনি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন। তিনি জানিয়েছেন, অপরাধী, চাঁদাবাজ, লুণ্ঠনকারী ও দুর্নীতিবাজরা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক: ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন — এর সাথে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই
- 📌 ৬ দফা দাবি: বিদ্যুৎ-গ্যাস সঙ্কট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার ও দলীয়করণ বন্ধসহ দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
- 📌 গণভোটের রায়: ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে — এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান
- 📌 অনির্বাচিত প্রশাসকদের অভিযোগ: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বর্তমান সরকারও আগের সরকারের মতোই অনির্বাচিত প্রশাসকদের নিয়োগ দিচ্ছে
- 📌 শহীদদের রক্তের বেইমানি: আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা না করলে জনগণ আবার সরকার পতনের আন্দোলনে নামবে
📰 বিস্তারিত
১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে হলেও পরবর্তী লংমার্চগুলো এমন হতে পারে না। তিনি জানান, ১১ দলের ছয় দফা দাবি দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে — না বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।
ডা. শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের সাথে করা ওয়াদা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি সেই কথা রেখেছে না। তিনি প্রশ্ন তুলেন, অনির্বাচিত সরকারের সময় দেশের যে সঙ্কট ছিল, বর্তমানেও কি সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে?
বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্বে সমাবেশে বলেন, বর্তমানে দেশে বাকশালের চেয়েও খারাপ অবস্থা। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে অনির্বাচিত প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি সেই স্বপ্ন ও শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করেছে। তিনি বলেন, গণভোট কোনো খেলনা নয় — রায় নিয়ে তামাশা করা হলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ঐতিহাসিক লংমার্চ সফলভাবে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করলে তা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত এমপিদের কার্যকরভাবে কাজ করতে না দিয়ে সাংসদীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
"আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। গণভোটের গণরায় অস্বীকার করে জনগণের সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষের দেয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা তা আদায় করেই ছাড়ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালদীঘি ময়দান, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির), কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, আল্লামা মামুনুল হক, নাহিদ ইসলাম এমপি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ দলীয় ঐক্য, ১৮ কোটি মানুষ, ৭০ শতাংশ গণভোটের রায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!