📌 সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের নিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আলোচনা হয়েছে উচ্চকক্ষের মেয়াদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষ থেকে প্রধান ও উপদেষ্টাদের নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদের সঙ্গে একই মেয়াদে উচ্চকক্ষ বিলুপ্ত না হলে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের নিয়োগের প্রস্তাব এসেছে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে।
- 📌 উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- 📌 স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিকল্প প্রস্তাবও আলোচিত হয়েছে।
- 📌 ৬৪ জেলা ও জাতিগোষ্ঠী প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন এবং এর মেয়াদ ৬ বছর করার প্রস্তাব এসেছে।
- 📌 বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় এবং রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
- 📌 সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
- 📌 উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিকল্প প্রস্তাবও এসেছে।
📰 বিস্তারিত
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা জানান। সভায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আলোচনা চলেছিল। মাঝে নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য এক ঘণ্টার বিরতি দেওয়া হয়েছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে এবং সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পরও উচ্চকক্ষ বহাল থাকলে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাখা যেতে পারে কি না, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছিল। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার ধারণাও আলোচিত হয়েছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের বিধান রাখার প্রস্তাব এসেছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, এসব প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি সম্পর্কে সবাইকে লিখিত মতামত দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বৈঠকে বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্পটি বাদ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের উপায় নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছিল। কমিটি প্রত্যেকের মতামত পর্যালোচনা করবে এবং সমঝোতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গড়ে উঠুক, সে লক্ষ্যে কাজ করবে।
সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর পরিবর্তে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যায় কি না, সে প্রস্তাবও এসেছে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে অধিকাংশের মত, সংসদকে সংশোধনীর মাধ্যমে আদালতের রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি নতুন ধারণা তুলে ধরেছেন কেউ কেউ।
"বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্পটি বাদ দিয়ে কীভাবে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যায়, সে বিষয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আহমেদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ জেলা, ৭৬ অনুচ্ছেদ, ১১:০০-১৭:৩০ (সভা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!