📌 ডাকাত বংশ থেকে শিক্ষক হয়ে কবি হওয়া গরিবউল্লাহ ফকির নিজের জীবনের অর্ধেক গল্প বলেছেন যেখানে প্রেম, হত্যা আর বিস্মৃতির গল্প মিশে আছে। তার বাবা নজিবউল্লাহ ফকিরকে হত্যা করা হয়েছিল ৫২ বছর বয়সে
বয়স হয়ে গেছে। মরে যাব। কম মানুষের মুখ দেখলাম। কম অমানুষের মুখ দেখলাম। আফসোস নাই। মানুষ না অমানুষ—মানবজন্তু বলতে পারলে ভালো লাগবে আমার। ডাকাতের বংশ আমরা ফকির। কলিমউল্লাহ ফকির থেকে শুরু করে সলিমউল্লাহ ফকির, নজিবউল্লাহ ফকির—এই বংশের সম্মান রক্ষা করে তারা মরেছেন। ভাটির ত্রাস কলিমউল্লাহকে পুলিশও ধরতে পারেনি। ব্রিটিশ আমলের সেই শক্তিশালী পুলিশও তাকে আটকাতে পারেনি। কিন্তু সলিমউল্লাহ ফকির সেই ডাকাতি পেশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি দল ভেঙে দিয়েছিলেন। আর তার পুত্র নজিবউল্লাহ ফকির আরও বড় নাফরমানি করে মারা গেছেন। বিএ, বিএড পাশ করে তিনি হাইস্কুলের শিক্ষক হয়েছিলেন। ফকির বংশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম শিক্ষক। আর আমি সেই নজিবউল্লাহ ফকিরের পুত্র—গরিবউল্লাহ ফকির। জন্ম থেকেই আমার মস্তিষ্ক ছিটগ্রস্ত। ডাকাত হইনি, শিক্ষক হইনি, হয়ে গেছি কবি। গরিব ফকির নামে কবিগিরি করি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফকির বংশের শেষ কবি গরিবউল্লাহ ফকিরের বয়স ৫৯ বছর, আগামী জানুয়ারিতে ৬০ বছর পূর্ণ হবে
- 📌 তার বাবা নজিবউল্লাহ ফকিরকে হত্যা করা হয়েছিল ৫২ বছর বয়সে
- 📌 কলিমউল্লাহ ফকির ছিলেন ব্রিটিশ আমলের ভাটির ত্রাস, পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি
- 📌 সলিমউল্লাহ ফকির ছিলেন প্রথম ফকির যিনি ডাকাতি ছেড়ে শিক্ষকতা বেছে নিয়েছিলেন
- 📌 গরিবউল্লাহ ফকিরের প্রকাশিত বই ‘গরিব ফকিরের অর্ধেক কবিতা’, আসন্ন বই ‘আরও অর্ধেক গরিব ফকির’
- 📌 তার স্ত্রী দিলরুবা পুরান ঢাকার বনেদি পরিবারের মেয়ে ছিলেন, যাকে তিনি হত্যা করে মৃতদেহ টুকরো টুকরো করেছিলেন
- 📌 দিলরুবার মৃতদেহের চোখের মণি তিনি ফরমালিনে সংরক্ষণ করেছিলেন
- 📌 তাদের একমাত্র সন্তান ছিল না, দিলরুবা মারা যাওয়ার আগে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
গরিবউল্লাহ ফকির নিজেকে পরিচয় দেন একজন গরিব ফকির হিসেবে। তার বাবা নজিবউল্লাহ ফকির ছিলেন ফকির বংশের প্রথম শিক্ষক। তিনি বিএ ও বিএড পাশ করে একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল তার স্ত্রী দিলরুবার সঙ্গে বিচ্ছেদ। দিলরুবা ছিলেন পুরান ঢাকার এক বনেদি পরিবারের মেয়ে। তাদের প্রেম হয়েছিল, বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু দিলরুবার পরিবার তাদের বিয়েতে সম্মতি দেয়নি কারণ তারা ডাকাতের বংশ বলে পরিচিত ছিল।
গরিবউল্লাহ ফকির জানান, দিলরুবা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তিনি তাকে হত্যা করেছিলেন। তিনি তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কেটেছিলেন এবং চোখের মণি ফরমালিনে সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘দিলরুবা মরে গেছে, তার চোখের মণি এই জগৎ দেখুক।’ তার এই কথা শুনে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ভব ঠাকুর ও কারুবাকী হক স্তম্ভিত হয়ে যান। তারা জানতে চান দিলরুবার মৃতদেহের সঙ্গে কী করা হয়েছিল। গরিবউল্লাহ জানান, তিনি তার মৃতদেহের অংশগুলো একটি কুকুর প্রজনন কেন্দ্রের গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, দিলরুবার অনুপস্থিতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কারণ সেই সময় সামাজিক মাধ্যম এতটা প্রভাবশালী ছিল না। মানুষজন মনে করেছিল দিলরুবা আলী আক্কাসের সঙ্গে চলে গেছেন মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ায়। এমনকি পুলিশও তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি। গরিবউল্লাহ ফকিরের জীবনের গল্প শুধু প্রেম আর হত্যার গল্প নয়, এটি একটি পরিবারের অবক্ষয়ের গল্পও বটে।
"আমি নিজে কী? মানুষ না অমানুষ?—মানবজন্তু বলতে পারলে ভালো লাগবে আমার। ডাকাতের বংশ আমরা ফকির। কলিমউল্লাহ ফকির থেকে শুরু করে সলিমউল্লাহ ফকির, নজিবউল্লাহ ফকির—এই বংশের সম্মান রক্ষা করে তারা মরেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুরান ঢাকা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গরিবউল্লাহ ফকির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর, ৫২ বছর, ৬টি প্রকাশিত সংখ্যা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!