📌 ইসলামে দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উপকারের পর খোঁটা দেওয়া হলে সেই দানের সওয়াব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে কুরআন ও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। উপকারীর মানসিকতা হওয়া উচিত এমন যে, আল্লাহই এর প্রকৃত মালিক ও প্রতিদানদাতা
ইসলাম মানুষের প্রতি সহযোগিতা ও উপকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে এমন কিছু আচরণ রয়েছে, যা উপকারের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয় এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উপকারের পর খোঁটা দেওয়া।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসলামে দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 উপকারের পর খোঁটা দেওয়া হলে সেই দানের সওয়াব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
- 📌 আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের দান-সদকা নষ্ট করো না খোঁটা ও কষ্টদানের মাধ্যমে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪)
- 📌 উপকারীর মানসিকতা হওয়া উচিত এমন যে, আল্লাহই এর প্রকৃত মালিক ও প্রতিদানদাতা।
- 📌 রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দান করার পর খোঁটা দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৬)
📰 বিস্তারিত
ইসলাম মানুষের প্রতি সহযোগিতা ও উপকারকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। মুমিনদের একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা। তবে উপকার করার পর খোঁটা দেওয়া হলে সেই দানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের দান-সদকা নষ্ট করো না খোঁটা ও কষ্টদানের মাধ্যমে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪)
ড. মুহাম্মদ সাইয়্যিদ তানতাবি তাঁর তাফসির গ্রন্থ ‘আত-তাফসির আল-ওয়াসিত লিল-কুরআনিল কারিম’-এ উল্লেখ করেছেন, খোঁটা দেওয়া ও লোকদেখানো দানের মতো কর্ম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন দান বাহ্যিকভাবে চাকচিক্যময় মনে হলেও তা প্রকৃতপক্ষে অনুর্বর। প্রবল বৃষ্টির পর যেমন মাটির আস্তরণ ধুয়ে যায়, তেমনি খোঁটা দেওয়ার কারণে দানের সওয়াবও বিনষ্ট হয়ে যায়।
উপকারকারী ব্যক্তি যদি বারবার সেই সাহায্যের কথা স্মরণ করিয়ে খোঁটা দেন, তাহলে তা উপকারগ্রহীতার মনে লজ্জা, অপমান ও কষ্টের জন্ম দিতে পারে। এমন অবস্থায় মানুষ তখন সহযোগিতা গ্রহণ করতেও ভয় পায়। খোঁটা দেওয়া মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কেও ফাটল ধরায় এবং সামাজিক সৌহার্দ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসলামে দান ও উপকারের গুরুত্ব যেমন অনেক, তেমনি এরপর খোঁটা দেওয়ার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাঁদের দিকে তাকাবেন না এবং তাঁদের পবিত্রও করবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! তাঁরা কারা?’ তিনি বললেন, ‘(তাঁদের একজন হলো) যে দান করার পর খোঁটা দেয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৬)
উপকার করার পর সেটিকে ভুলে যাওয়াই উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামিক স্কলাররা। মুমিনের মানসিকতা হওয়া উচিত এমন যে, আল্লাহই এর প্রকৃত মালিক ও প্রতিদানদাতা। মানুষ মনে রাখল কি না, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল কি না, এসব নিয়ে অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কারও উপকার করার পর সেটিকে ভুলে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এমনকি সম্ভব হলে নিজের উপকারের কথা অন্যের কাছে না বলাই উত্তম। কারণ, মানুষকে সাহায্য করে তার আত্মমর্যাদা রক্ষা করা উপকারেরই অংশ।
"উপকার হোক ভালোবাসার সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা টিকে থাকে ভালোবাসা ও সম্মানের ওপর। মানুষ বিপদের সময় মানুষের কাছেই আশ্রয় খুঁজে পাবে, এটাই একটি সুস্থ সমাজের বৈশিষ্ট্য। তাই আমাদের উপকার এমন হওয়া উচিত, যা মানুষের হৃদয়ে নিরাপত্তা ও ভালোবাসা তৈরি করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ সাইয়্যিদ তানতাবি, ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আয়াত ২৬৪, হাদিস ১০৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!