📌 ইসলামে দুনিয়াবিমুখতা বলতে সংসার ত্যাগ বা বৈরাগ্যকে বোঝায় না; বরং অন্তরকে পার্থিব মোহ থেকে মুক্ত রাখাকে বোঝায়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ইহকাল-পরকালের ভারসাম্য রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
ইসলাম ধর্মে দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মানুষের জীবনে পার্থিব সম্পদ ও ক্ষণস্থায়ী আনন্দকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তা আত্মার নৈতিক পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলামে ‘জুহদ’ বা বস্তু-অনাসক্তির মূল শিক্ষা হলো অন্তরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে মুক্ত রাখা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসলামে দুনিয়াবিমুখতা বলতে সংসার ত্যাগ বা বৈরাগ্যকে বোঝায় না; বরং অন্তরকে পার্থিব মোহ থেকে মুক্ত রাখাকে বোঝায়
- 📌 রাসুল (সা.) বলেছেন, দুনিয়াবিমুখতা হলো আল্লাহর কাছে যা আছে তার তুলনায় নিজের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া
- 📌 পবিত্র কোরআনে দুনিয়াকে ক্রীড়া-কৌতুক ও প্রতারণার উপকরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে
- 📌 মুমিনের জীবনকে বিদেশি মুসাফিরের মতো সংক্ষিপ্ত সফরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে
- 📌 ইহকাল ও পরকালের ভারসাম্য রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোরআনের সূরা কাসাসের ৭৭ নম্বর আয়াতে
📰 বিস্তারিত
মানবজীবনের অন্যতম প্রধান ভ্রান্তি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য অনুধাবন করতে না পারা। ইসলাম ধর্মে দুনিয়াবিমুখতার প্রকৃত অর্থ হলো অন্তরকে পার্থিব মোহ থেকে মুক্ত রাখা। অনেকেই দুনিয়াবিমুখতাকে সংসার ত্যাগ বা বৈরাগ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন, যা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকৃতপক্ষে, ইসলামে ‘জুহদ’ বলতে বোঝায় আল্লাহর দরবারে যা আছে তার তুলনায় নিজের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া।
পবিত্র কোরআনে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী রূপ তুলে ধরে মানুষকে আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা জেনে রেখো, পার্থিব জীবন তো কেবল ক্রীড়া-কৌতুক, বাহ্যিক সাজসজ্জা, পারস্পরিক বড়াই এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতার নাম।’ (সুরা হাদিদ, আয়াত: ২০)। মুমিনের জীবনকে বিদেশি মুসাফিরের মতো সংক্ষিপ্ত সফরের সঙ্গে তুলনা করে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করো, যেন তুমি একজন বিদেশি মুসাফির।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১৬)।
ইহকাল ও পরকালের ভারসাম্য রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোরআনের সূরা কাসাসের ৭৭ নম্বর আয়াতে। এ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তার মাধ্যমে আখিরাতের নিবাস লাভের চেষ্টা করো এবং দুনিয়া থেকেও নিজের অংশ অগ্রাহ্য কোরো না।’ ইসলামি জীবনদর্শনে দুনিয়াকে পথ চলার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যেখানে পরকালই মূল লক্ষ্য।
‘তুমি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হও, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। আর মানুষের হাতে যা আছে, তার প্রতি লোভহীন হও, তবে মানুষও তোমাকে ভালোবাসবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১০২)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০, ৭৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!