📌 বিভুরঞ্জন সরকার ছিলেন একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কলামিস্ট। অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক ছিল লেখকের। তাঁর সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলি ছিল অনন্য।
বিভুরঞ্জন সরকারকে আর দেখা হবে না। তাঁর গভীর চোখ, চিবুকের টোল আর শান্ত স্বরের কথা মনে পড়বে না। কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল তাঁর অবয়বের মতোই বিশাল। লেখকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের। সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে প্রথম দেখা হয়েছিল তাঁদের। তখন বিভু ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য। মধুর ক্যানটিনে মাসুদ আহমেদের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। বিভুকে লেখক প্রথম দেখেই একজন দৃঢ়চেতা ও যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে চিনতে পেরেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিভুরঞ্জন সরকার ছিলেন একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কলামিস্ট, যিনি তাঁর সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার জন্য পরিচিত ছিলেন
- 📌 লেখকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের, যা শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে
- 📌 সত্তরের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বিভু, যখন তিনি ছিলেন যৌবনকালীন
- 📌 বিভু তাঁর কলমকে কখনোই বিক্রি করেননি বা কারও কাছে নিজেকে বিক্রি করেননি, যা ছিল তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয়
- 📌 বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করলেও মালিকদের অন্যায়ের কারণে বারবার সংবাদপত্র পরিবর্তন করতে বাধ্য হন তিনি
📰 বিস্তারিত
লেখকের সঙ্গে বিভুরঞ্জন সরকারের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ ও গভীর। সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে প্রথম দেখা হয়েছিল তাঁদের। তখন বিভু ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য। মধুর ক্যানটিনে মাসুদ আহমেদের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। বিভুকে লেখক প্রথম দেখেই একজন দৃঢ়চেতা ও যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে চিনতে পেরেছিলেন। তাঁর উচ্চকিত ব্যক্তিত্ব লেখককে বিব্রত করলেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জন্মেছিল।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে লেখক উচ্চশিক্ষা সমাপনান্তে ঢাকায় ফিরে এলে আবার বিভুর সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। একদিন বিভু তাঁর কক্ষে উপস্থিত হন এবং তাঁকে খুলনার এম ইউ আহমেদের ঢাকার বাসায় আয়োজিত এক সম্মিলনীতে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কবি শামসুর রাহমান, আহমেদুল কবির প্রমুখ। সেই সম্মিলনীতে এক অনির্বচনীয় আড্ডা জমে উঠেছিল। পরে বহুবার বিভু সেই আড্ডার কথা স্মরণ করতেন।
ততদিনে বিভু একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক ও কলাম লেখক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকায় ‘তারিখ ইব্রাহীম’ ছদ্মনামে কলাম লিখতেন। তাঁর লেখাগুলো ছিল তীক্ষ্ণ যুক্তির অধিকারী এবং ন্যায়ের পক্ষে। তবে তাঁর এই ন্যায়নিষ্ঠা অনেকের কাছে বিরক্তিকরও ছিল। ফলে তিনি এক সংবাদপত্র থেকে অন্য সংবাদপত্রে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন। সংবাদপত্র মালিকদের প্রতারণার শিকার হয়ে তাঁর অর্থক্ষয় হয় এবং তিনি ঋণগ্রস্ত হন। কিন্তু কখনোই তিনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি।
"বিভুকে আমি সব সময় বলতাম ‘ভদ্রলোক সাংবাদিক’। সাংবাদিকতার নীতিমালাগুলো বিভু মেনে চলত। সেসব মূল্যবোধ থেকে সে কখনো বিচ্যুত হয়নি, ওঁর পরম কষ্টের সময়েও।"
বিভুরঞ্জন সরকার ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি কখনো নিজেকে বিক্রি করেননি বা কারও কাছে নিজেকে বিক্রি করতে চাননি। তাঁর এই চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর জীবনে অনেক কষ্ট ও দুশ্চিন্তা ছিল, যা তিনি লেখকের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে লেখক তাঁকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, তবে অনেক কিছুই তাঁর সাধ্যের বাইরে ছিল। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো মুঠোফোন, তথ্যপ্রযুক্তির বার্তা এবং ই-মেইলের মাধ্যমে। এমনকি তাঁর সন্তানদের সাফল্যের সংবাদও তিনি লেখকের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিভুরঞ্জন সরকার
- 👥 অন্যান্য ব্যক্তি: লেখক, মাসুদ আহমেদ, কবীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, এম ইউ আহমেদ
- 🔢 সম্পর্কের সময়কাল: অর্ধশতাব্দীর বেশি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!