📌 সিলেটে মাছ ধরার সময় পেটে জ্যান্ত বাইম মাছ ঢুকতে পেরে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পেটে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে ৬৫ সেমি দীর্ঘ জীবন্ত মাছ বের করে আনেন। এই বিরল ঘটনার বিস্তারিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে
সিলেটে মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনাবশত পেটের ভেতরে জ্যান্ত বাইম মাছ ঢুকতে পেরে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেটের ভেতর থেকে ৬৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ জীবন্ত মাছ বের করা হয়। এই বিরল ঘটনার বিস্তারিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ বছর বয়সী সিলেটের একজন জেলে মাছ ধরার সময় পেটের ভেতরে জ্যান্ত বাইম মাছ ঢুকতে পেরে মারাত্মক সংক্রমণে ভুগেন।
- 📌 চিকিৎসকরা জরুরি অস্ত্রোপচার করে পেটের ভেতর থেকে ৬৫ সেমি দীর্ঘ জীবন্ত বাইম মাছ বের করে আনেন।
- 📌 অস্ত্রোপচারের সময় মাছটি পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটিতে জীবিত অবস্থায় ছিল এবং নড়াচড়া করছিল।
- 📌 রোগীর শরীরে রক্তচাপ ১০০/৬০ মিমি পারদ এবং পালস রেট মিনিটে ১১০ ছিল।
- 📌 ঘটনাটি ২০০৪ সালের হংকংয়ের ঘটনার মতোই বিরল, তবে বাংলাদেশের ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।
📰 বিস্তারিত
৫৫ বছর বয়সী ওই জেলে নদীতে মাছ ধরার সময় একটি বাইম মাছ তাঁর লুঙ্গির ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে মলদ্বার দিয়ে সোজা অন্ত্রে প্রবেশ করে। ঘটনার পর লজ্জার কারণে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানাননি। তিনি মনে করেছিলেন মাছটি স্বাভাবিক মলত্যাগের মাধ্যমে বের হয়ে যাবে। কিন্তু তা না হয়ে পেটের ভেতরে মাছটির বিচরণের কারণে মারাত্মক শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর, পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে তিনি ট্রমা ও ইমার্জেন্সি সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন।
হাসপাতালে আনার সময় তাঁর শরীরে রক্তচাপ ছিল ১০০/৬০ মিমি পারদ, পালস রেট ছিল মিনিটে ১১০ এবং শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৯৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, রোগীর পেট মারাত্মক শক্ত হয়ে পড়েছিল। রক্তের পরীক্ষায় নিউট্রোফিলের মাত্রা ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা শরীরে তীব্র সংক্রমণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এক্স-রে চিত্রে দেখা যায়, ডায়াফ্রামের ডান পাশের নিচে অর্ধচন্দ্রাকার গ্যাসের ছায়া এবং পেটের ভেতরে ঘোলাটে ভাব, যা অন্ত্র ফুটা হওয়ার এবং পেরিটোনাইটিসের নিশ্চিত লক্ষণ।
অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা দেখতে পান, সিগময়েড কোলনের সামনের দেয়ালে প্রায় ৩ বাই ১ সেন্টিমিটার আকারের একটি বড় ক্ষত তৈরি হয়েছে। মাছটি সিগময়েড কোলন ফুটা করে পেটের খালি অংশে চলে গিয়েছিল এবং সেখানে মল ছড়িয়ে পড়েছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটিতে অক্সিজেনের অভাব সত্ত্বেও মাছটি জীবিত ছিল এবং অস্ত্রোপচারের সময় নড়াচড়া করছিল। চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জ্যান্ত মাছটিকে পেটের ভেতর থেকে বের করে আনেন, স্যালাইন দিয়ে পেট পরিষ্কার করেন এবং সিগময়েড কোলোস্টমি সম্পন্ন করেন।
"দুর্ঘটনাবশত বা ভুলবশত মানবদেহে বাইরের কোনো বস্তু প্রবেশ করা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একটি জীবন্ত প্রাণী অন্ত্রের শক্তিশালী দেয়াল ভেদ করে ভেতরে চলে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ৫৫ বছর বয়সী জেলে, ডা. মোবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায়, অমৃতা শ্রেষ্ঠা, মোস্তফা নাওয়াই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ সেমি (মাছের দৈর্ঘ্য), ৫৫ বছর (রোগীর বয়স), ২৪ ঘণ্টা (ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি), ১০০/৬০ মিমি পারদ (রক্তচাপ), ৯৩.৫% (নিউট্রোফিল মাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!