📌 ফেরেশতাদের সৃষ্টি হয়েছে আলোর উপাদান 'নুর' দিয়ে, যা মানুষ ও জিনের মতো জৈবিক চাহিদা ছাড়া সম্পূর্ণ পবিত্র। কোরআন ও হাদিসে তাদের বৈশিষ্ট্য, কর্মবন্টন এবং মানবজীবনের সঙ্গে সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে
দৃশ্যমান বিশ্বের বাইরে মহান আল্লাহর অনন্য সৃষ্টি ফেরেশতাদের সৃষ্টির রহস্য এবং তাদের মহাবিশ্ব পরিচালনায় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামের ইমানের ছয়টি মূল রুকনের অন্যতম হলো ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস। কোরআন ও নবী হাদিসে তাদের সৃষ্টি উপাদান, বৈশিষ্ট্য এবং কর্মবন্টন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেরেশতাদের সৃষ্টি হয়েছে 'নুর' বা আলোর উপাদান দিয়ে, যা তাদেরকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও নিষ্কলুষ করেছে।
- 📌 ফেরেশতাদের কোনো জৈবিক চাহিদা নেই — তাদের ক্ষুধা, পিপাসা, নিদ্রা বা লিঙ্গভেদ নেই।
- 📌 কোরআনে বলা হয়েছে, ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ মেনে চলে এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করে ক্লান্তি ছাড়াই।
- 📌 ফেরেশতাদের মধ্যে চারজন প্রধান: জিবরাইল (ওহি পৌঁছানোর দায়িত্ব), মিকাইল (আবহাওয়া ও রিজিক), ইসরাফিল (কিয়ামতের শিঙা) ও মালাকুল মাউত (মৃত্যু)।
- 📌 প্রতিটি মানুষের ভালো-মন্দ কাজের আমলনামা লিখে রাখেন 'কিরামান কাতিবিন' নামে দু'জন ফেরেশতা।
📰 বিস্তারিত
ফেরেশতাদের সৃষ্টি উপাদান হিসেবে আল্লাহ 'নুর' বা আলোকবর্তিকা ব্যবহার করেছেন, যা মানুষের সৃষ্টি উপাদান মাটি ও জিনের সৃষ্টি উপাদান উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। রাসুল (সা.) বলেছেন, “ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নুর থেকে, জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে খাঁটি নির্ধূম অগ্নিশিখা থেকে এবং নবী আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই উপাদান (মাটি) দিয়ে, যার বর্ণনা ইতিপূর্বেই তোমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৬)। এই আলোর সৃষ্টি তাদেরকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও নিষ্কলুষ করেছে।
ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য মানুষ ও জিনের মতো নয়। তাদের কোনো জৈবিক চাহিদা নেই — ক্ষুধা, পিপাসা, নিদ্রা বা বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। কোরআনে বলা হয়েছে, “তারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ দেওয়া হয় তা-ই তারা পালন করে।” (সুরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৬)। তাদের সার্বক্ষণিক কাজ হলো আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করা। কোরআনে এসেছে, “তারা দিনরাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং কখনো ক্লান্তিবোধ করে না।” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ২০)।
ফেরেশতাদের মধ্যে চারজন প্রধান ফেরেশতার দায়িত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জিবরাইল (আ.) হলেন ফেরেশতাদের নেতা এবং নবী-রাসুলদের কাছে ওহি পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত। মিকাইল (আ.) দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৃতি জগতের আবহাওয়া ও রিজিক ব্যবস্থাপনা। ইসরাফিল (আ.) শিঙা হাতে মহাপ্রলয়ের নির্দেশ পালনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। আর মালাকুল মাউত দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা, যিনি নির্দিষ্ট আয়ু শেষ হলে প্রাণীকুলের আত্মা কবজ করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, “বলো, তোমাদের দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতাই তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের দিকেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” (সুরা সাজদাহ, আয়াত: ১১)।
মানবজীবনের সঙ্গে ফেরেশতাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিটি মানুষের ভালো-মন্দ কাজের নিখুঁত আমলনামা তৈরি করার জন্য সবসময় উপস্থিত থাকেন 'কিরামান কাতিবিন' নামে দু'জন ফেরেশতা। কোরআনে বলা হয়েছে, “যখন ডানে ও বামে বসা দুই গ্রহণকারী (আমল) লিপিবদ্ধ করে; মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন, তা সংরক্ষণের জন্য তার কাছে সজাগ প্রহরী প্রস্তুত রয়েছে।” (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ১৭-১৮)।
"ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নুর থেকে, জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে খাঁটি নির্ধূম অগ্নিশিখা থেকে এবং নবী আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই উপাদান (মাটি) দিয়ে, যার বর্ণনা ইতিপূর্বেই তোমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাবিশ্ব (কোরআন ও হাদিসের আলোচনা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফেরেশতাকুল, রাসুল (সা.), নবী আদম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ (ইমানের রুকন), ২০ (আম্বিয়া আয়াত), ১১ (সাজদাহ আয়াত), ১৭-১৮ (ক্বাফ আয়াত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!