📌 ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম হলো সুফি আলেম আবদুল কাদির জিলানির ওফাত দিবসের স্মরণে পালিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ১১ রবিউস সানি তিথিতে এই দিনটি পালন করা হয় এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁর জীবন ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সুফি আলেমদের একজন হিসেবে পরিচিত আবদুল কাদির জিলানির ওফাত দিবসকে স্মরণ করে প্রতি বছর ১১ রবিউস সানি তিথিতে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ দিনটি সুফি অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়। কুমিল্লার আসলাম মিয়া এই অনুষ্ঠানের ইতিহাস ও ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ইসলামবিষয়ক গবেষক মুফতি হাসান আরিফ জানান, ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ দোয়া বা মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে করা জিয়ারত। ‘ইয়াজদহম’ ফারসি সংখ্যাবাচক শব্দ, যার অর্থ ‘এগারো’। তাই এই দিনটিকে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ বলা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবদুল কাদির জিলানির ওফাত দিবসকে স্মরণ করে পালিত হয় ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ অনুষ্ঠান
- 📌 ১১ রবিউস সানি তিথিতে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, কারণ এই দিনে তিনি পরলোক গমন করেন
- 📌 তিনি ছিলেন কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘গাউসুল আজম’ বা ‘বড়পীর’ নামে সমধিক পরিচিত
- 📌 হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিথিতে তিনি ইরাকের বাগদাদে ইন্তেকাল করেন
- 📌 তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহ ‘গুনিয়াতুত তালিবিন’, ‘ফাতহুল গাইব’, ‘আল-ফাতহুর রাব্বানি’ ও ‘কাসিদায়ে গাউসিয়া’ ইসলামি সাহিত্যে অমর
- 📌 এই দিনে তাঁর জীবন ও দ্বীনি খেদমত আলোচনা করা হয় এবং দরুদ পাঠ, দান-সদকা ও কোরআন তিলাওয়াত করা হয়
📰 বিস্তারিত
আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ইরানের জিলান প্রদেশের একটি সমুদ্র উপকূলবর্তী শহরে ৪৭০ হিজরিতে (১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হাসান (রা.) এবং হোসাইন (রা.)-এর বংশধর। শৈশবেই জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বাগদাদে গমন করেন এবং শায়খ আবু জাকারিয়া তাবরিজি (রহ.) সহ তৎকালীন বিখ্যাত আলেমদের কাছে তফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ছিলেন কেবল সুফিসাধকই নয়, ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন ও কাব্যে অগাধ পণ্ডিত এবং হাম্বলি ও শাফেয়ি মাজহাবের শীর্ষ ফকিহ ছিলেন।
বাগদাদে তাঁর বয়ান ও নসিহত শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো। তাঁর মোহাচ্ছন্ন কণ্ঠ ও সুফি দর্শনে হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পথভ্রষ্ট মানুষ হিদায়েতের আলো খুঁজে পান। সুলতান নুরুদ্দিন জেনকি ও গাজি সালাহউদ্দিন আইয়ুবির বিশেষ কয়েকজন উপদেষ্টাও সরাসরি তাঁর দরসের ছাত্র ছিলেন। কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাসাউফের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছিলেন।
ওলামায়ে কেরামের মতে, ফাতিহা-ই-ইয়াজদহমের প্রকৃত শিক্ষা হলো তাঁর মতো চারিত্রিক মাধুর্য, সত্যবাদিতা ও সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত থেকে জীবন পরিচালনা করা। এই দিনটি পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁর জীবন ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা, দরুদ পাঠ, দান-সদকা ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁর আত্মার মাগফিরাত ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা।
"ফাতিহা-ই-ইয়াজদহমের প্রকৃত শিক্ষা হলো তাঁর মতো চারিত্রিক মাধুর্য, সত্যবাদিতা ও সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত থেকে জীবন পরিচালনা করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরানের জিলান প্রদেশ, বাগদাদ (মাজার শরিফ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল কাদির জিলানি (রহ.), মুফতি হাসান আরিফ, আসলাম মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (রবিউস সানি), ৪৭০ (হিজরি), ৫৬১ (হিজরি), ১০৭৮ (খ্রিষ্টাব্দ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!