📌 নর্থস্টারে নতুন চাকরির দ্বিতীয় দিনে এক কেক ভোজনে অংশ নিয়ে হতবাক হন রাফি। সাদমান ভাইয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে উঠে আসে কর্পোরেট দুনিয়ার নির্মম বাস্তবতা। ছোটবেলার স্বপ্ন হারিয়ে যাওয়া মানুষদের মুখোমুখি হন তিনি
নর্থস্টারের মতো দেশসেরা কর্পোরেট জায়ান্টে যোগদানের দ্বিতীয় দিনেই এক কেক ভোজনে পুরো দলকে অবাক করে দিয়েছিলেন রাফি। পত্রিকা আর সামাজিক মাধ্যমের আলোচনা ক্ষণিকের জন্য হলেও তার মনে রয়ে গেছে সেই ঘটনার ক্ষতচিহ্ন। মৃত্যু হলে হয়তো সহজ হতো, কিন্তু যা ঘটেছিল তা ছিল এক অচেনা জগতের নির্মম বাস্তবতা। নিজের নাম প্রকাশ না করলেও রাফি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাফির নতুন চাকরির দ্বিতীয় দিনে টিমের অর্ধেক সদস্যকে নিয়ে কেক ভোজনের আয়োজন
- 📌 বিদায় নেওয়া সাদমান ভাইয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ছিল এক কর্পোরেট আনুষ্ঠানিকতা
- 📌 ছোটবেলার স্বপ্ন নিয়ে আলোচনার সময় সবাই হতবাক হয়ে যান
- 📌 সাদমান ভাইয়ের মুখে উঠে আসে কর্পোরেট দুনিয়ার নির্মম চিত্র
- 📌 শোয়েব স্যার প্রশ্ন তোলেন কর্মক্ষেত্রে আবেগের স্থান সম্পর্কে
📰 বিস্তারিত
বারোটা ইন্টারভিউ ফেল করার পর তেরো নম্বর ইন্টারভিউতে চাকরি পান রাফি। নর্থস্টার নামের কর্পোরেট জায়ান্টে যোগ দেওয়ার দিনটি ছিল আসলে অন্য একজন কর্মীর বিদায়ের দিন। সাদমান ভাই নামে পরিচিত সেই কর্মী ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি কর্মী। ছয় বছরের সেরা পারফরমার হিসেবে খ্যাত সাদমান ভাই হঠাৎই রিজাইন করে দিয়েছিলেন। তার বিদায় অনুষ্ঠানে অফিসের কাছের এক দামি রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয়েছিল ডিনারের। সেই ডিনারেই ঘটেছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা।
ছয়জন মানুষের উপস্থিতিতে সেই ডিনারে অংশ নেন রাফি। টিম লিড শোয়েব স্যার ছিলেন ব্যস্ত ল্যাপটপ নিয়ে। সিনিয়র অ্যানালিস্ট মিতু আপা ছিলেন দুই সন্তানের মা, যাদের স্কুলের অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি গত দুই বছর। কলিগ জাহিদ আর তমাল ছিলেন প্রমোশনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। আর টেবিলের মাথায় ছিলেন সাদমান ভাই। তার চেহারা ছিল রোগা, চোখের নিচে কালি, কিন্তু চোখে ছিল এক গভীর প্রশান্তি। যেন তিনি কোনো জানাজা থেকে ফিরেছেন।
খাওয়ার মাঝে সাদমান ভাই হঠাৎই প্রশ্ন করেন, ‘ছোটবেলায় কে কী হতে চেয়েছিলেন?’ টেবিলটা চুপ হয়ে যায়। শোয়েব স্যার প্রথমে হাসলেও পরে বিরক্ত হন। জাহিদ আর তমালও জানাতে পারেন না তাদের ছোটবেলার স্বপ্ন। মিতু আপা জানান তিনি গান শিখতেন। শোয়েব স্যার বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘এসব আলাপের পয়েন্ট কী?’ কিন্তু সাদমান ভাই থামেননি। তিনি রাফিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি লেখক হতে চেয়েছিলে। লিখে রাখো কথাটা। কাগজে।’
সাদমান ভাইয়ের মুখে উঠে আসে কর্পোরেট দুনিয়ার নির্মম চিত্র। তিনি উল্লেখ করেন ফাহিম নামে এক কর্মীর কথা, যিনি কনটেন্ট মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে এক রাতে ডেস্কেই মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর আগে অফিস কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের কাছে ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড চেয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ হ্যান্ডওভার সম্পন্ন করার জন্য।
"পারফরম্যান্স! শোয়েব ভাই, মনে আছে আপনার ফাহিমের কথা? কোয়ার্টার শেষ হিসাবের রাতে ডেস্কে মাথা রাখল, আর তুলল না। বয়স ছিল তেত্রিশ! মনে আছে কোম্পানি কী করছিল? জানাজার আগেই ওর ম্যানেজার ফ্যামিলিরে ফোন দিয়ে জিগাইছিল, ভাবি, ল্যাপটপের পাসওয়ার্ডটা যদি একটু বলতেন, গুরুত্বপূর্ণ হ্যান্ডওভারটা আটকায়া আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নর্থস্টার কর্পোরেট অফিস, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাফি, সাদমান ভাই, শোয়েব স্যার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বারোটা ইন্টারভিউ ফেল করার পর তেরো নম্বর ইন্টারভিউতে চাকরি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!