📌 ঢাকার আকাশে রংধনুর সৌন্দর্য দেখে আনালিয়া নামের এক শিশুর প্রশ্ন মানবতার অভাবকে তুলে ধরে। একই শহরে সহকর্মীদের অবিশ্বাস আর নিষ্ঠুরতা যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে
ঢাকার আকাশে সেদিন রংধনু দেখা গিয়েছিল। অফিসের জানালা থেকে খোলা আকাশ দেখতে পেতেন লেখক। রেলগাড়ি, এক্সপ্রেস ওয়ে আর দূরের দালানকোঠার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মেঘ আর রোদ দেখতে দেখতে জীবন কাটে তাঁর। কিন্তু সেদিনের আকাশ ছিল অন্যরকম। বারবার রং বদলানো মেঘ আর রোদের খেলা যেন এক স্লাইড শো। সহকর্মীর কন্যা আনালিয়া প্রায়ই অফিসে আসে। তার সরলতা আর মিষ্টি স্বভাব সবাইকে মুগ্ধ করে। আনালিয়া প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগেও কাজ করে। বিভিন্ন ডেস্কে গিয়ে বলে, ‘তোমার কাজ নাই? কথা বলছ কেন?’ সেদিন আনালিয়া জানালা দিয়ে রংধনু আর মেঘ দেখছিল। হঠাৎ মেঘের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ‘এই মেঘগুলো কোথায় যাবে?’ লেখক উত্তর দিলেন, ‘দূরে, অন্য কোনো দেশে।’ আনালিয়া গম্ভীর হয়ে বলল, ‘হায় হায়, তখন ওই দেশে বৃষ্টি হবে, ওরা ভিজে যাবে।’ শিশুর এই সরল প্রশ্ন লেখকের মনে দাগ কাটল। অচেনা মানুষের জন্য শিশুর মায়া আর বাস্তব জীবনের নিষ্ঠুরতা যেন দুই বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার আকাশে সেদিন রংধনু দেখা গিয়েছিল, যা বারবার রং বদলাচ্ছিল
- 📌 আনালিয়া নামের এক শিশু অফিসে প্রায়ই আসে এবং সবাইকে মুগ্ধ করে
- 📌 আনালিয়া মেঘ দেখে প্রশ্ন করে, ‘এই মেঘগুলো কোথায় যাবে?’
- 📌 শিশুর সরল প্রশ্ন লেখকের মনে মানবতার অভাব নিয়ে ভাবিয়ে তোলে
- 📌 ঢাকার রাস্তায় গাড়ির ধাক্কা আর তর্কাতর্কি এখন নিত্যদিনের ঘটনা
- 📌 কারওয়ান বাজারে এক ব্যক্তিকে মারধর করার ঘটনা দেখে লেখকের মনে প্রশ্ন জাগে
📰 বিস্তারিত
লেখকের অফিসের জানালা থেকে ঢাকার আকাশ দেখা যায়। সেদিন রংধনু আর মেঘের খেলা দেখে আনালিয়া নামের এক শিশু মুগ্ধ হয়েছিল। মেঘের দিকে তাকিয়ে সে প্রশ্ন করেছিল, ‘এই মেঘগুলো কোথায় যাবে?’ লেখক উত্তর দিয়েছিলেন, ‘দূরে, অন্য কোনো দেশে।’ আনালিয়া তখন বলেছিল, ‘হায় হায়, তখন ওই দেশে বৃষ্টি হবে, ওরা ভিজে যাবে।’ শিশুর এই সরল প্রশ্ন লেখকের মনে মানবতার অভাব নিয়ে ভাবিয়ে তোলে।
লেখক উল্লেখ করেন, ঢাকার রাস্তায় গাড়ির ধাক্কা আর তর্কাতর্কি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কারওয়ান বাজারে এক ব্যক্তিকে পাঁচ-ছয়জন মিলে মারধর করার ঘটনা দেখে লেখকের মনে প্রশ্ন জাগে। শতাধিক মানুষ তা উপভোগ করেছে আর মোবাইলে ভিডিও করেছে। অপরাধীর বিচার চাওয়া হলেও নিষ্ঠুরতা উপভোগ করা যেন এখন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। ধর্ষণ আর খুনের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলেও তা এখন ‘নারকোটিক ডিসফাংশন’ হয়ে গেছে।
লেখক আরও উল্লেখ করেন, মানুষ এখন একা হয়ে গেছে। কাছের মানুষ, আত্মীয় আর বন্ধুবান্ধব কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। একটা স্ট্যাটাস বা শেয়ারই বন্ধুত্বের ইতি টেনে দেয়। পাশাপাশি চললেও অন্তরে বাড়ছে অবিশ্বাস আর ব্যবধান। দেশের রাজনীতি আর ক্ষমতার পালাবদল দেখে লেখকের মনে হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে অবিশ্বাস এখন ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে গেছে।
"কিছুই কোথাও যদি নেই/ তবুতো কজন আছি বাকি/ আয় আরো হাতে হাত রেখে/ আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনালিয়া, লেখক সুমনা শারমীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচ-ছয়জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!