📌 বরিশালের কলসকাঠি পালপাড়ায় একমাত্র সমীর পাল এখনো মনসাঘট তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। শ্রাবণসংক্রান্তিতে মনসাপূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত এই ঘট তৈরিতে তাঁর ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। স্থানীয় লোকবিশ্বাস ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শিল্প এখন সংগ্রামের মুখে
শ্রাবণের বিকেলে মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে বরিশালের বাকেরগঞ্জের কলসকাঠি পালপাড়ায় একটিমাত্র বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় আলোকিত কর্মশালায় সমীর পাল মনসাদেবীর মুখ অঙ্কন করছেন। সারি সারি সাদা মাটির ঘটের মধ্যে কোনোটি খড়িমাটির প্রলেপে আবৃত, কোনোটি হলুদ রঙে দেবীর অবয়বের প্রাথমিক রেখা ফুটিয়ে তুলছে। স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মনসাপূজায় ব্যবহৃত মনসাঘট তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলসকাঠি পালপাড়ায় একসময় ২০টি পাল পরিবার মনসাঘট তৈরির ঐতিহ্য ধরে রাখলেও এখন তা একমাত্র সমীর পালের হাতেই রয়ে গেছে
- 📌 সমীর পালের বয়স ৩৫ বছর, তিনি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বাবা নারায়ণ চন্দ্র পালের কাছ থেকে এই শিল্পের শিক্ষা লাভ করেন
- 📌 প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর সমীর পুরোপুরি মৃৎশিল্পের কাজে যুক্ত হন এবং এখন প্রতি বছর প্রায় ১৫০টি মনসাঘট তৈরি করেন
- 📌 প্রতিটি মনসাঘটের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচ পড়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা
- 📌 স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মনসাপূজা সর্পদেবীর উপাসনা হিসেবে পালিত হয়, যা বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত
📰 বিস্তারিত
বরিশাল অঞ্চলের কলসকাঠি পালপাড়ায় শ্রাবণসংক্রান্তির মনসাপূজাকে কেন্দ্র করে মনসাঘট তৈরির ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। একসময় এই এলাকার প্রায় ২০টি পাল পরিবার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন শুধু সমীর পালই তা ধরে রেখেছেন। সমীরের কর্মশালায় সারি সারি সাদা মাটির ঘটের মধ্যে দেবী মনসার মুখ অঙ্কন করতে দেখা যায়। তিনি তুলির কয়েকটি আঁচড়ে ঘটটিকে প্রাণবন্ত করে তুলছেন।
সমীর পাল জানান, তাঁর বাবা নারায়ণ চন্দ্র পালের কাছ থেকে তিনি এই শিল্পের শিক্ষা লাভ করেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তিনি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনি পুরোপুরি মৃৎশিল্পের কাজে যুক্ত হন। তাঁর সংসারে স্ত্রী অনিমা, দেড় বছরের মেয়ে শ্রেয়সী এবং বৃদ্ধ মা পুষ্প রানী রয়েছেন।
স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মনসাপূজা সর্পদেবীর উপাসনা হিসেবে পালিত হয়, যা বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। বাংলার মানুষের কাছে মনসার পরিচয় প্রধানত মনসামঙ্গল কাব্যের মাধ্যমে। চাঁদ সওদাগরের সঙ্গে দেবী মনসার দ্বন্দ্ব, লখিন্দরের সর্পদংশন এবং বেহুলার দেবলোকে যাত্রার কাহিনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রচলিত।
সমীর পাল জানান, প্রতি বছর তিনি প্রায় ১৫০টি মনসাঘট তৈরি করেন। প্রতিটির দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচ পড়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। তিনি বলেন, ‘আগের মতো চাহিদা না থাকলেও এই কাজ ছেড়ে দিতে পারছি না। এ কাজই তো আমাদের পরিচয়।’
"অন্য এলাকার ঘটের তুলনায় বরিশালের ঘটের বিশেষত্ব এর গঠনে। এখানে ঘটের আকৃতির সঙ্গে পবিত্রতা ও উর্বরতার প্রতীকী ধারণা যুক্ত। এটি স্থানীয় মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের অংশ।" — সুশান্ত ঘোষ, সংগঠক, বরিশাল চারুকলা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলসকাঠি পালপাড়া, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সমীর পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ (পাল পরিবার), ৩৫ (বছর), ১৫ (বছর), ১৫০ (টি ঘট), ৩০০-৩৫০ (টাকা), ১০০-১৫০ (টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!