📌 সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান নওগাঁর শাহিন। মা নার্গিস বেগম বলেন, ছেলে টাকা পাঠানোর আশায় ফল কিনে খেতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা যান। এতে পরিবারটি একা হয়ে গেছে
সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান নওগাঁর শাহিন। তার মা নার্গিস বেগম বলেছেন, ছেলেটি মা-কে ফোন করে বলেছিল, '১২ তারিখে টাকা পাঠাবো' বলে ফল কিনে খেতে গিয়ে পুড়ে মারা গেল। এতে পরিবারটি একা হয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান নওগাঁর শাহিন। তার মা নার্গিস বেগম বলেছেন, '১২ তারিখে টাকা পাঠাবো বলেই ছেলে পুড়ে মরে গেল'।
- 📌 শাহিন ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রেখে গিয়েছিলেন স্ত্রী, ৬ বছর বয়সী ছেলে, ৮ মাস বয়সী কন্যা এবং ৬০ বছরের মা।
- 📌 শাহিনের মামা আব্দুস সালাম বলেছেন, ছেলেটি ধার দেনা করে বিদেশে গিয়েছিল। টাকা পাঠানোর আশায় পুড়ে মারা গেল।
- 📌 জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, মরদেহগুলো বিনা খরচে পরিবারের কাছে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রশাসন পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
- 📌 আগস্ট মাসে সৌদি আরবে একই কারখানায় আগুনে মারা যান ১৬ বাংলাদেশি প্রবাসী। এর মধ্যে ৫ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান নওগাঁ শহরের বাসিন্দা শাহিন। তার মা নার্গিস বেগম শাহিনের বাড়িতে গিয়ে বলেছেন, 'শাহিনকে ফোন দিয়ে বলছিলাম, বাবারে আমি কিছু ফল কিনে খাই জানিস তো তুই, আমাকে কিছু টাকা পাঠা। শাহিন বললো মা, ১২ তারিখে টাকা পাঠাবো। ফল কিনে খাইও। তাতে আমার ছেলেটা আগুনে পুড়ে মরে গেলো। আমার বুকের ধনটা আমাকে রেখে চলে গেলো। আমি তো একা হয়ে গেলাম, আমি এখন বাঁচবো কী করে।'
শাহিনের মামা আব্দুস সালাম বলেছেন, 'ছোট থেকেই আমার ভাগ্নে অনেক পরিশ্রমী ছিলো। আমার ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর আমার বোন শাহিনকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করে। ছেলেটা ধার দেনা করে বিদেশে গেলো। টাকা পাঠানো শুরু করবে তাতেই মারা গেলো। পরিবারটা একা হয়ে গেলো। সরকারের কাছে পরিবারটির দিকে সুনজর দেওয়ার দাবি জানাই।'
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, 'মরদেহগুলো বিনা খরচে পরিবারের মাঝে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।'
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে ১২ জনের বাড়িই নওগাঁ জেলায়। গত ২৭ আগস্ট ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। আজ বাকি ৭ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। এই ৭ জনের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে শাহিনও একজন।
"আমি তো একা হয়ে গেলাম, আমি এখন বাঁচবো কী করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেলা, সৌদি আরবের রিয়াদ কারখানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নার্গিস বেগম (শাহিনের মা), আব্দুস সালাম (মামা), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ টাকা ঋণ, ৬ বছর বয়সী ছেলে, ৮ মাস বয়সী কন্যা, ৬০+ বয়সী মা, ১২ তারিখে টাকা পাঠানোর আশায়, ৩২ হাজার টাকা, ২০ হাজার টাকা কিস্তি, ১৬ বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!