📌 বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়ার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সৌদি আরব ও জর্ডানে ন্যায্য বেতন পাওয়ার পরিবর্তে পাশবিক শোষণ ও নিপীড়নের মুখোমুখি হন তারা। প্রতিবছর হাজার হাজার নারী দেশে ফিরে আসেন শূন্য হাতে, অনেকের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা বা নির্যাতনের কারণে
বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমিতে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়ার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। কর্মসংস্থানের অভাব এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ জীবনের আশায় প্রতিবছর হাজার হাজার নারী নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সৌদি আরব, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে তাদের অপেক্ষিত নিরাপদ জীবন আসে না — বরং শোষণ, নির্যাতন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ প্রবাসী নারী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত, অধিকাংশই সৌদি আরব ও জর্ডানে
- 📌 চুক্তি অনুযায়ী ১০০০ সৌদি রিয়াল বেতন ও যাতায়াত খরচ বহনের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেকেই ন্যায্য বেতন পান না
- 📌 নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের সমাজে কলঙ্কিত মনে করা হয়, পরিবার তাদের আত্মসাত করে
- 📌 ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৮৪ জন নারী শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যা নথিভুক্ত করা হয়েছে
- 📌 দালাল চক্র অজ্ঞ ও দরিদ্র নারীদের চাকরির আশা দেখিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে শোষণ করে
📰 বিস্তারিত
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, বাংলাদেশের সিংহভাগ প্রবাসী নারী শ্রমিকের গন্তব্য সৌদি আরব ও জর্ডান। এদের মধ্যে অধিকাংশ নারী গৃহপরিচারিকার কাজে যুক্ত হন। কিন্তু সেখানে তাদের শুধু নির্দিষ্ট কাজেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় না — ভয়াবহ ব্যাপার হলো, তাদেরকে গৃহকর্তার মনোরঞ্জনের জন্যও বাধ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর হাজার হাজার নারী নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মরুর দেশে পাড়ি জমান।
দেশে কর্মসংস্থানের অভাব এবং সঠিক তথ্য না জানার কারণে গ্রাম্য সহজ-সরল নারীদের অতি স্বল্প বেতনে চুক্তিতে রাজি করিয়ে তাদের তপ্ত মরুভূমির দেশে পাঠানো হয়। কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে দালাল চক্র বছরের পর বছর ধরে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং সঠিক তথ্য না জানার কারণে এসব গ্রাম্য সহজ-সরল নারীদের অতি স্বল্প বেতনে চুক্তিতে রাজি করিয়ে তাদের তপ্ত মরুভূমির দেশে পাঠানো হয়।
ব্র্যাকের ২০২৩ সালের অভিবাসন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর চুক্তিভঙ্গ, নির্যাতন ও নানা জটিলতার কারণে দেড় থেকে দুই হাজার নারী শ্রমিক শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন। প্রতিবছর দেড় শতাধিক নারী শ্রমিকের লাশ দেশে আসে। এসব নারী যখন কোনো বিচার না পেয়ে দেশে ফিরে আসেন, তখন সমাজ ও তাঁদের নিজের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না। বরং তাঁদের ওপর হওয়া নির্যাতনের জন্য তাঁদের চরিত্রকেই দোষারোপ করা হয়।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া এবং দেশে লাশ হয়ে আসা নারী কর্মীদের অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘আত্মহত্যা’কে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার নারীরাও এই নির্যাতনের শিকার হন।
"দেশে কর্মসংস্থানের অভাব এবং সঠিক তথ্য না জানার কারণে গ্রাম্য সহজ-সরল নারীদের অতি স্বল্প বেতনে চুক্তিতে রাজি করিয়ে তাদের তপ্ত মরুভূমির দেশে পাঠানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব, জর্ডান, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশের প্রবাসী নারী শ্রমিক, দালাল চক্র, কর্মসংস্থান ব্যুরো কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭-১০ শতাংশ (প্রবাসী নারী), ৮৪ জন (আত্মহত্যা নথিভুক্ত), ১০০০ সৌদি রিয়াল (চুক্তি অনুযায়ী বেতন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!