📌 সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁর এবং দুইজন নাটোরের বাসিন্দা। ঋণ নিয়ে বিদেশ গিয়ে জীবনের স্বপ্ন ফিরল কফিনে। সরকারি সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দাফনের জন্য দেওয়া হয়েছে
সৌদি আরবে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁ জেলার এবং দুইজন নাটোর জেলার বাসিন্দা। এই দুর্ঘটনায় তাদের স্বপ্নের জীবন চিরতরে কফিনে ফিরে গেছে। ঋণ নিয়ে বিদেশ গিয়ে সচ্ছলতার আশায় যারা গিয়েছিলেন, তাদের স্বজনরা এখন ঋণের পাহাড়ের মুখোমুখি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত — পাঁচজন নওগাঁর, দুইজন নাটোরের
- 📌 নিহতদের মধ্যে শাহিন (নওগাঁ), হাসিবুল হাসান শুভ (আত্রাই), মিনহাজ প্রামাণিক, মাসিদুল সরদার সজিব, সাগর আলী (নওগাঁ) এবং মোহাম্মদ শামীম, সাব্বির হোসেন (নাটোর)
- 📌 নিহতদের মা-বাবা বলছেন: ‘বুকের ধনটা হামাক রেখে চলে গ্যালো, কিসের আশায় বাঁচমু?’
- 📌 সরকারি সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দাফনের জন্য দেওয়া হয়েছে, তিন মাস পর ৩ লাখ টাকা অনুদান
- 📌 নওগাঁ জেলা প্রশাসক জানান: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসন তৎপর
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া সাত বাংলাদেশির মরদেহ গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশে পৌঁছায়। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সে তাদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। নওগাঁ জেলার পাঁচজন এবং নাটোর জেলার দুইজন প্রবাসী এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
নওগাঁ জেলার নিহত পাঁচজন প্রবাসীর মধ্যে রয়েছে পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী। নাটোর জেলার নিহত দুইজন হলেন মোহাম্মদ শামীম ও সাব্বির হোসেন।
অভাব-অনটনের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ভিটেমাটি বন্ধক রেখে ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই প্রবাসীরা। স্বজনদের চোখে ছিল সচ্ছলতার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কফিনে ফিরে গেছে। নিহতদের মধ্যে শাহিনের মা নার্গিস বেগম বলেছেন, ‘তিন মাস আগেই তো হামার ছাওয়াল অনেক আশা করে, সমিতি থেকে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ গিয়েছিল। কিন্তু সর্বনাশা আগুনে সব শ্যাষ হয়ে গেল। বুকের ধনটা হামাক রেখে চলে গ্যালো। কিসের আশায়, কেমন করে হামরা বাঁচমু?’
নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেছেন, ‘ছেলের লাশটা বুকে জড়াইয়া মনে হইলো, আমার বুকের ভেতরটাও চিরতরে ফিটা চৌচির হয়ে গেছে।’ নিহত মাসিদুলের বাবা মজনু সরদার বলেছেন, ‘জীবনের এই শেষ বয়সে এসে এত বড় শোক সহ্য করার শক্তি আমার আর নেই।’ নিহত সাগর আলীর স্ত্রী পারভীন খাতুন বলেছেন, ‘ঋণের একটা টাকাও শোধ করতে পারলাম না। বাচ্চা দুইটাকে নিয়ে এই শূন্য হাতে আমি এখন কার কাছে গিয়ে দাঁড়াব?’
"আমার বুকের ভেতরটাও চিরতরে ফিটা চৌচির হয়ে গেছে"
সরকারি সহায়তার বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে আপাতত ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায় নিহত মোহাম্মদ শামীম ও সাব্বির হোসেনের মরদেহ গতকাল তাঁদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে দুজনের মরদেহ খাজুরা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের দাফনের যাবতীয় ব্যয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। এই দুই পরিবারের আর কোনো দাবি থাকলে, তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (সোফা কারখানা), বাংলাদেশ (নওগাঁ, নাটোর), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নার্গিস বেগম (শাহিনের মা), পারুল বিবি (মিনহাজের মা), মজনু সরদার (মাসিদুলের বাবা), পারভীন খাতুন (সাগর আলীর স্ত্রী), মো. মনিরুজ্জামান (আত্রাই ইউএনও), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (নওগাঁ জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ (নিহত), ৫ (নওগাঁর), ২ (নাটোরের), ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা (ঋণ), ৩৫ হাজার টাকা (দাফন সহায়তা), ৩ লাখ টাকা (সরকারি অনুদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!