📌 মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকার ৩৫ বছর বয়সী সাইদুল ব্যাপারী ইতালি যাত্রা করার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাফিয়া হাতে নির্যাতিত হন। পরিবার থেকে ৩৯ লাখ টাকা চুরি করে নেওয়া হয়। পরিবার দু’মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পায়নি
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার ৩৫ বছর বয়সী সাইদুল ব্যাপারী ইতালি যাত্রা করার উদ্দেশ্যে দুই মাস ধরে নিখোঁজ হয়ে পড়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, সাইদুলকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া হাতে আটকে রাখা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে পরিবার থেকে মোট ৩৯ লাখ টাকা চুরি করে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মাদারীপুর আদালতে মামলা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদারীপুরের ঘটকচর ইউনিয়নের সাইদুল ব্যাপারী (৩৫) ইতালি যাত্রা করার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাফিয়া হাতে নির্যাতিত হন।
- 📌 পরিবার থেকে ৩৯ লাখ টাকা চুরি করে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ লাখ টাকা চুক্তির বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 ২০২৫ সালের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে সাইদুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ইতালিতে পৌঁছানোর পরিবর্তে মাফিয়া হাতে আটকে রাখা হয়।
- 📌 সাইদুলের মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও ছোট দুই সন্তান (৪ বছর ও ১১ মাস বয়সী) তার সন্ধান পায়নি।
- 📌 সাইদুলের স্ত্রী মেরি আক্তার বলেছেন, ‘আমার মেয়েটা প্রতিদিন তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়, কিন্তু বাবা ফোনে নেই।’
- 📌 সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন ব্যাপারী বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেন।
- 📌 অভিযুক্ত আনোয়ার ফরাজী আনু মিথ্যা অভিযোগের দাবি তোলেন, কিন্তু পরিবার দাবি করে, ‘দালাল আমাদের প্রলোভন দেখিয়ে ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিলেন।’
- 📌 মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, আদালতের নির্দেশনা পেলে মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে।
📰 বিস্তারিত
মাদারীপুরের ঘটকচর ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার সাইদুল ব্যাপারী (৩৫) ইতালি যাত্রা করার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু ইতালি পৌঁছানোর পরিবর্তে সাইদুলকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া হাতে আটকে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সাইদুলকে নির্যাতন করা হয় এবং ভয় দেখিয়ে পরিবার থেকে মোট ৩৯ লাখ টাকা চুরি করে নেওয়া হয়েছে।
সাইদুলের পরিবার জানায়, ইতালি যাওয়ার কথা বলে একই ইউনিয়নের মৃত বাদশা ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী আনুর সঙ্গে ২৩ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে সাইদুলকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ইতালিতে পৌঁছানোর পরিবর্তে সাইদুলকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া হাতে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবার থেকে ধাপে ধাপে টাকা চুরি করে নেওয়া হয়।
সাইদুলের স্ত্রী মেরি আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েটা প্রতিদিন তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়। মোবাইল সামনে এনে বলে, বাবার সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু ওর বাবা তো আর ফোনের ওপাশে নেই। তাই কষ্ট নিয়ে চুপ হয়ে থাকতে হয় আমাদের। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, বেঁচে আছেন কি না, কিছুই জানি না। গত দুই মাস ধরে তাঁর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’
সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন ব্যাপারী বাদী হয়ে আনোয়ার ফরাজী আনু, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন ব্যাপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমকে আসামি করে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেন। সাইদুলের ভাই মাহিদুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, ‘দালাল আমাদের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে আমার ভাইকে নির্যাতন করা হতো। আরও বেশি নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা নিয়েছে। আমরা জায়গাজমি সব বিক্রি করে দিয়েছি। আমরা দালালদের বিচার চাই আর আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।’
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন আনু মিথ্যা অভিযোগের দাবি তোলেন, ‘আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’ অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিল্পী আক্তার দাবি করেন, ‘তাঁদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’
"আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই।"
— সাইদুলের মা সূর্যবান বেগম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাদারীপুর সদর উপজেলা, ঘটকচর ইউনিয়ন, ঘটকচর দত্তের হাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইদুল ব্যাপারী (৩৫), মেরি আক্তার, সামাদ হোসেন ব্যাপারী, আনোয়ার ফরাজী আনু, শিল্পী আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ লাখ টাকা (চুরি), ২৩ লাখ টাকা (চুক্তি), ১২ লাখ টাকা (অগ্রিম), ৯ জুন ২০২৫ (লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া), ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!