📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে যুবক মো. ফোরকানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। কেন্দ্রটির পরিচালক দাবি করেন, তিনি বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারা যান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে যুবক মো. ফোরকানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রটির কর্মীরা তাকে মৃত অবস্থায় ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৃত যুবকের নাম মো. ফোরকান (২৯), নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে
- 📌 ফোরকানকে তিন মাসের জন্য ৭০ হাজার টাকার চুক্তিতে কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল
- 📌 স্বজনদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে চিকিৎসা না দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন
- 📌 কেন্দ্রের পরিচালক দাবি করেন, ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকানের ভাই মো. ইমন মিয়া জানান, তার ভাই কয়েক মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার তাকে প্রয়াস নামে পরিচিত কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি ৫০ হাজার টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা ছিল। ইমন মিয়া বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয় ফোরকান অসুস্থ এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গেলেও সেখানে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি। পরে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি লাশবাহী গাড়িতে তার ভাইয়ের লাশ। কেন্দ্রের অফিস তালাবদ্ধ ছিল এবং কর্মীরা সবাই পালিয়ে গিয়েছিল। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তায় লাশটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইমন মিয়া আরও বলেন, তার ভাইকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে কেন্দ্রের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি জানান, এর আগেও একই কেন্দ্রে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তার জানা আছে। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের হত্যার বিচার চান তারা।
প্রয়াস কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল দাবি করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। তারা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে মৃত অবস্থায়ই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
"ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানান স্বজনরা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ফুলবাড়িয়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ফোরকান (২৯), মো. ইমন মিয়া, মো. রুবেল, ডা. নাজমুল হক রনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ বছর, ৭০ হাজার টাকা, ২০ হাজার টাকা, ৯৯৯
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!