📌 যশোরের ভবদহে জুলাই মাসের বৃষ্টিতে ১০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য নদী পুনঃখনন হলেও স্থায়ী সমাধান না পেলে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট চালু করতে হবে
যশোরের ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই এলাকায় পানি জমে থাকলেও এর স্থায়ী সমাধান এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। জুলাই মাসের অব্যাহত বৃষ্টিতে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার অন্তত ১০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। পানির মধ্যে মাচা তৈরি করে বসবাস করতে হচ্ছে। গবাদিপশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সড়কের ওপর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের ভবদহে ১০০টি গ্রাম প্লাবিত, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী তিন মাস
- 📌 পলি জমে মুক্তেশ্বরী, শ্রী, হরি ও টেকা নদীর নাব্যতা কমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ
- 📌 ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় ছয়টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন চলছে, ৫৯.৭৫ কিলোমিটার কাজ শেষ
- 📌 ৩৩ কোটি টাকায় ২৪টি খালের ৭৮.২৩০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু করতে হবে
- 📌 ভবদহের মানুষ ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চায়
📰 বিস্তারিত
ভবদহের জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো পলি জমে মুক্তেশ্বরী, শ্রী, হরি ও টেকা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া। এ কারণে পানিনিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হওয়ার কথা থাকলেও নদীগুলোর নাব্যতা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী সমাধানে ব্যর্থতার ফল।
সরকার নদী পুনঃখননে উদ্যোগ নিয়েছে। ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৯ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। আরও ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪টি খালের ৭৮ দশমিক ২৩০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। তবে এত অর্থ ব্যয়ের পরও যদি মানুষের ঘরবাড়িতে পানি থেকে যায়, তাহলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুধু খনন করলেই সমস্যা সমাধান হবে না। নদীর পানিপ্রবাহ, জোয়ার-ভাটা এবং বিলের সঙ্গে নদীর সংযোগ—পুরো জলব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবদহে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা টিআরএম ব্যবস্থা চালু করা দরকার। জোয়ারের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কাজে লাগিয়ে পলি অপসারণ ও নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। নদী খননের পাশাপাশি কোথায় টিআরএম প্রয়োজন, কোথায় জলাধার ও বিল ব্যবস্থাপনা করতে হবে, তার বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা জরুরি।
সর্বশেষ, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ ব্যয় করাই দায়িত্বের শেষ নয়; সেই প্রকল্পে মানুষের দুর্ভোগ কমছে কি না, তারও নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। ভবদহের মানুষ ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চায়। কর্তৃপক্ষের এখন সেই দায় স্বীকার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।
"ভবদহকে আর প্রতিবছরের বন্যা ও জলাবদ্ধতার খবর হিসেবে দেখা যাবে না। লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি রক্ষায় সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভবদহ, যশোর; মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্তৃপক্ষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি গ্রাম প্লাবিত, ৫৪টি বিল, ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন, ৫৯.৭৫ কিলোমিটার কাজ শেষ, ৩৩ কোটি টাকা, ২৪টি খাল, ৭৮.২৩০ কিলোমিটার পুনঃখনন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!