📌 হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের বৈষম্য নিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজারে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হরিজন নারীদের অধিকার বঞ্চনা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের অসুবিধা, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের অসুবিধা, বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয় উঠে আসে
হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের বৈষম্য নিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজারে গত মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হরিজন নারীদের অধিকার বঞ্চনা, সামাজিক উপেক্ষা, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের অসুবিধা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের অসুবিধা এবং পারিবারিক সহিংসতার বিষয়গুলি আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০x১০ বর্গফুটের ছোট ঘরে** বসবাস করতেও হরিজন নারীদের মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সমস্যা জটিল করে তোলে
- 📌 **সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী** না হলে কলোনিতে থাকার জায়গা পাওয়া যায় না — এই বৈষম্য হরিজন নারীদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে
- 📌 **পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্য**ের কারণে হরিজন নারীরা উচ্চশিক্ষা লাভ করলেও চাকরি পেতে পারেন না — ঠিকানা দেখেই নিয়োগকর্তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন
- 📌 **বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতা** হরিজন নারীদের জীবনে বাড়ছে — পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের চাপের কারণে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে পড়েছে
- 📌 **গবেষণায় ১৫ জনের সাক্ষাৎকার** নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৭ জন কিশোরী-তরুণী — তাদের জীবনযাপনের অসুবিধা ও সামাজিক বৈষম্যের কথা উঠে আসে
📰 বিস্তারিত
হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের বৈষম্য নিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘হরিজন নারীর অধিকার ও কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলো। বৈঠকে বক্তারা বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের বৈষম্য, আর্থিক অনটন ও সামাজিক উপেক্ষার কারণে পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি লেবু বাসফোর বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তিনি নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক পানির পাত্র থেকে পানি নিতে পারতেন না। এছাড়াও, তিনি বলেন, অনেক জায়গায় হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতি সমাজের বৈষম্যমূলক দৃষ্টি এখনও বিদ্যমান — যেমন, দোকান থেকে পান কিনে চুন নিতে গেলে দোকানকর্মী চুনের কৌটা স্পর্শ করতে দেন না।
দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সনু রানী দাস দাবি করেন, যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতে চান, তাদেরকে সেভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা শিক্ষিত হয়ে উঠছেন, তাঁরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পেশা পরিবর্তন করতে পারেন — সেই সুযোগও দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চমাধ্যমিক বা গ্র্যাজুয়েট হরিজন নারীরা চাকরি করতে গিয়ে ঠিকানা দেখেই প্রত্যাখ্যানের শিকার হন।
বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল ডোম বলেন, একদিকে পড়াশোনা করা শিক্ষিত হরিজন ছেলেমেয়েরা শুধু হরিজন হওয়ার কারণে চাকরি পাচ্ছেন না, অপর দিকে সিটি করপোরেশনে হরিজনদের জন্য নির্ধারিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কঠিন করে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা চায়।
"চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের যে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, সেটির প্রভাব পড়ে হরিজন নারীদের ওপরও।"
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ইলিরা দেওয়ান বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ে পঞ্চায়েত থাকলেও সেখানে নারী প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সমাজে একসময় হেডম্যান ও কার্বারি পদে নারীরা ছিলেন না, কিন্তু এখন বেশ কিছু জায়গায় নারীরা এসব পদে আছেন। তিনি বলেন, চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কারওয়ান বাজার, প্রথম আলো কার্যালয়) ও মিরন জল্লা হরিজন সিটি কলোনি (পুরান ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেবু বাসফোর (সভাপতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ), সনু রানী দাস (নির্বাহী পরিচালক, দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থা), বিমল ডোম (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ), ইলিরা দেওয়ান (সাবেক সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০x১০ বর্গফুটের ঘর, ৭ জন কিশোরী-তরুণীসহ ১৫ জনের সাক্ষাৎকার, ১৫ জন গবেষণায় অংশগ্রহণকারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!