📌 ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে চার বছর ধরে চলছে এমন এক ব্যতিক্রমী দোকান যেখানে দোকানদার নেই। ক্রেতারাই নিজেদের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে চা-পানসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে দাম পরিশোধ করে যান। দোকানটির মালিক সমসের আলী জানান, মানুষের সততার ওপর ভরসা রেখেই দোকানটি পরিচালিত হচ্ছে
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে টানা চার বছর ধরে চলছে এমন এক ব্যতিক্রমী দোকান যেখানে দোকানদার নেই। সামনে সাজানো চা, পান, বিস্কুট, কেকসহ নানান পণ্য। পাশে চুলার ওপর চায়ের কেটলি। ক্রেতারা নিজেরাই চা বানিয়ে খেয়ে বা পণ্য নিয়ে দাম হিসাব করে দোকানের ক্যাশে রেখে যান। কেউ কেউ পরে এসে পরিশোধ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চার বছর ধরে দোকানটি চলছে যেখানে দোকানদার নেই, ক্রেতারাই নিজেদের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পণ্য নিয়ে যান
- 📌 দোকানটির অবস্থান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে
- 📌 দোকানটির মালিক সমসের আলী জানান, মানুষের সততার ওপর ভরসা রেখেই দোকানটি পরিচালিত হচ্ছে
- 📌 দোকানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়
- 📌 দোকানটির মালিক সমসের আলী নিজেই প্রতিদিন সকালে দোকান খুলে পণ্য সাজিয়ে রাখেন এবং চুলা জ্বালিয়ে দিয়ে চলে যান
📰 বিস্তারিত
চারাতলা বাজারের এই ব্যতিক্রমী দোকানটির সামনে সাজানো থাকে চা, পান, বিস্কুট, কেকসহ নানান পণ্য। পাশে চুলার ওপর চায়ের কেটলি আর প্রয়োজনীয় সবকিছু। শুধু দোকানদার নেই। যাঁরা চা-পান বা পণ্য কিনতে আসেন, তাঁরাই বিক্রেতা। এভাবেই টানা চার বছর ধরে চলছে দোকানটি।
দোকানে ক্রেতারা এসে নিজের হাতে চা বানিয়ে খেয়ে বা কেক-বিস্কুট নিয়ে দাম হিসাব করে দোকানের ক্যাশে রেখে যান। কেউ কেউ বাকি নিয়ে পরে এসে পরিশোধ করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানে বৃদ্ধ হারুনুর রশিদ কয়েক কাপ চা তৈরি করছেন। আর দোকানের বেঞ্চে অনেকে বসে আছেন। দেখে মনে হলো, তিনিই দোকানি। কিন্তু পরে বোঝা গেল, তিনিও দোকানের একজন ক্রেতা। নিজের জন্য চা বানানোর পাশাপাশি অন্যদের জন্যও চা তৈরি করছেন তিনি।
চা খাওয়া শেষে যে যাঁর মতো বিল পরিশোধ করে চলে যাচ্ছেন। হারুনুর রশিদ বলেন, ‘দোকানে বেশির ভাগ সময় বিক্রেতা থাকেন না। চা খেতে ইচ্ছা করলে এসে নিজেই বানিয়ে নিই। সঙ্গে কেউ থাকলে তার জন্যও বানিয়ে দিই। খাওয়া শেষে যত টাকা বিল হয়, দোকানে রেখে চলে যাই। এই দোকানে কেউ কাউকে পাহারা দেয় না। কিন্তু সবাই নিজের দায়িত্ব বুঝে নেয়।’
আফাঙ্গীর হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, যাঁর যখন প্রয়োজন, তখন তিনিই দোকানদার। পণ্য নিয়ে বা চা খেয়ে দাম রেখে চলে যাচ্ছেন। টাকা না থাকলে পরে এসে পরিশোধ করছেন। চার বছর ধরে এভাবেই চলছে। পণ্য নিয়ে দাম না দেওয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। মানুষের সততার ওপরই দোকানটি চলছে।
‘সকালে এসে দোকান খুলে পণ্য সাজিয়ে রাখি। চুলা জ্বেলে দিয়ে চলে যাই। যার যখন প্রয়োজন হয়, নিজের মতো করে চা-পান বানিয়ে খান। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা লাভ হয়। মানুষের সততার ওপর ভরসা রেখেই দোকানটি চলছে। মানুষের ওপর এতটা ভরসা করেও কখনো ঠকতে হয়নি।’
এই দোকানটির মালিক পার্শ্ববর্তী ভালকি গ্রামের মৃত মুরাদ আলী মণ্ডলের ছেলে সমসের আলী। তিনি জানান, একসময় তিনি চারাতলা বাজারেই বেশি সময় কাটাতেন। তখন অন্যের দোকানে বসে না থেকে নিজেই একটি দোকান করার চিন্তা করেন। কর্মচারী রাখার সামর্থ্য বা ইচ্ছাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চারাতলা বাজার, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সমসের আলী (দোকান মালিক), হারুনুর রশিদ (ক্রেতা), আফাঙ্গীর হোসেন (ক্রেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর, ৪০০-৫০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!