📌 গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ তিনটি বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে উত্থাপিত বিলগুলো পরীক্ষার জন্য সাংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ অন্যতম। একই দিনে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আরেকটি বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য তৃতীয় বিলটি উত্থাপন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত
- 📌 গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত
- 📌 গুমের সংজ্ঞায় সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্টীকরণ
- 📌 তিনটি বিলই পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ
- 📌 স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটিতে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুম প্রতিরোধে সমন্বিত আইনগত কাঠামো গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুমের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিজ পরিচয়ে বা সরকারের সমর্থনে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করে তার অবস্থান গোপন রাখলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া না গেলে বা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলটিতে গুম হওয়া ব্যক্তির উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এছাড়া গুমের অভিযোগ তদন্তের ভার ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রেরণের বিধান রয়েছে।
"গুম একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা রক্ষায় এই বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
এছাড়া একই বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আরেকটি বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য তৃতীয় বিলটি উত্থাপন করা হয়। তিনটি বিলই পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি বিল, ১২০ দিন তদন্তকাল, ৯০ কার্যদিবস বিচারকাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!