📌 মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ-সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি রোধে থাইল্যান্ড আগামী এক বছরে ১০ লাখ পরিবারের বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের জন্য ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার মাধ্যমে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ–সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মোকাবেলায় থাইল্যান্ড আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ লাখ পরিবারকে তাদের বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসাতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোট ৫ গিগাওয়াট (৫ হাজার মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জ্বালানি রূপান্তর জরুরি তহবিল থেকে ২০০ বিলিয়ন বাথ (৬ বিলিয়ন ডলার) আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
- 📌 প্রতিটি পরিবার বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর জন্য ৫০ হাজার বাথ (প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার) আর্থিক সহায়তা পাবে।
- 📌 জুন পর্যন্ত ছয় মাসে থাইল্যান্ডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে, যখন গ্যাস থেকে এসেছে ৬০ শতাংশেরও বেশি।
- 📌 এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো ফিলিপাইন এবং বাংলাদেশও একই ধরনের রুফটপ সৌর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
- 📌 ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে থাইল্যান্ড ছিল সবচেয়ে এগিয়ে, কিন্তু সরকারি প্রণোদনা হ্রাসের পর ভিয়েতনাম দেশটিকে ছাড়িয়ে যায়।
📰 বিস্তারিত
থাইল্যান্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি আমদানি করে থাকে এবং তার মোট এলএনজির অর্ধেকই স্পট মার্কেট থেকে কেনে। ফলে এলএনজির দামের বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকিতে দেশটি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর এলএনজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত বলেন, জরুরি তহবিল ব্যবহার করে জ্বালানি রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, তার প্রভাব থাইল্যান্ডকে ভবিষ্যতেও বারবার মোকাবেলা করতে হবে। ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই লক্ষ্য থাইল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা আগামী ২৫ বছরে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের রূপরেখা নির্ধারণ করবে এবং আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৬ গিগাওয়াট, যার মধ্যে আবাসিক বাড়ির ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ছিল ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। এই লক্ষ্য অর্জন করা গেলে থাইল্যান্ডের রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাবে।
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে থাইল্যান্ড সরকার দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজছে এবং আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে নতুন দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় চুক্তি করার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিটিটির অনুসন্ধান ও উৎপাদন শাখা পিটিটিইপি আন্দামান সাগর ও মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাজেট বরাদ্দ করেছে।
"জরুরি তহবিল ব্যবহার করে জ্বালানি রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, তার প্রভাব থাইল্যান্ডকে ভবিষ্যতেও বারবার মোকাবেলা করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থাইল্যান্ড (এশিয়া), ফিলিপাইন এবং বাংলাদেশ একই উদ্যোগে অংশীদার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান, অর্থমন্ত্রী একনিতি নিথিতানাপ্রাপাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ১০ লাখ পরিবার, ৫ গিগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্য, ৫০ হাজার বাথ পরিবার সহায়তা, ১০ শতাংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস, ৬০ শতাংশেরও বেশি গ্যাস বিদ্যুৎ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!