📌 গুরুদাসপুর উপজেলায় এমপি আব্দুল আজিজকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের পরও অনুষ্ঠানের ব্যয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক
গুরুদাসপুর উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় অংশ নিতে এমপি আব্দুল আজিজকে শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি মাদ্রাসা ও ১০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এমপি আব্দুল আজিজকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য গুরুদাসপুর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে
- 📌 অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের দুপুরের খাবারের জন্য প্রতি প্যাকেটে ২০০ টাকা ব্যয় হয়েছে
- 📌 কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়েছে
- 📌 অনুষ্ঠানের ব্যয় মেটাতে উত্তোলিত চাঁদার পরিমাণ যথেষ্ট না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক
📰 বিস্তারিত
গুরুদাসপুর উপজেলা চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি মাদ্রাসা ও ১০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। উপজেলা শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ও শহীদ মবিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী জানান, এমপি আব্দুল আজিজকে সংবর্ধনা দেওয়া এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৭৬৭ জন শিক্ষক ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এই চাঁদা তোলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বজলুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েক দফা আলোচনার পর প্রতিষ্ঠানভেদে চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
তবে কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের ক্রেডিট নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও প্রশাসন শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে। তাঁদের মতে, অনুষ্ঠানের ব্যয়ের টাকা তাদের দেওয়া উচিত ছিল। অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে চাঁদা দিতে বাধ্য হলেও তাঁদের মধ্যে বিরক্তি রয়েছে। আয়োজক কমিটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক জানান, অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ ৭৬৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের নামাজের বিরতির পর বেলা ২টার দিকে এমপি আব্দুল আজিজ সমাপনী বক্তব্য দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার জানান, সরকারের নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় শিক্ষকেরাই অনুষ্ঠানের ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে এমপি আব্দুল আজিজ জানান, চাঁদা তোলার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এমনটা জানলে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না।
"চাঁদা তুলে অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়টি জানা নেই। এমনটা জানলে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দিতাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুরুদাসপুর, নাটোর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: এমপি মো. আব্দুল আজিজ, প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১টি বিদ্যালয়, ১৩টি মাদ্রাসা, ১০টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান, ৭৬৭ জন শিক্ষক, ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!