📌 টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ট্রাকস্ট্যান্ড দখলে নিয়েছে চত্বর, মাদকের আড্ডা বসছে বারান্দায়। সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এমপি টুকু গণপূর্ত বিভাগকে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল এক যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই হলটি। কিন্তু সংস্কারের অভাবে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হলটির বারান্দায় এখন পানের দোকান বসেছে, চত্বর দখল করেছে ট্রাকস্ট্যান্ড, আর মাদকের আড্ডা বসছে নিয়মিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাঙ্গাইলের ভাসানী হল পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এক যুগের বেশি সময় ধরে
- 📌 হলটির প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয়েছিল টাউন হল নামে মিলনায়তনটি
- 📌 ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অধ্যাপক আবুল ফজল
- 📌 ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল উদ্বোধন করেন তৎকালীন কমিশনার খানে আলম খান
- 📌 টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে নাম পরিবর্তন করে ভাসানী হল রাখা হয়
- 📌 প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল
- 📌 এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন এবং সংস্কারের নির্দেশ দেন
- 📌 স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা দ্রুত হলটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাসানী হল একসময় জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র ছিল। প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট এই মিলনায়তনটি নির্মিত হয়েছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল তৎকালীন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান মিলনায়তনটি উদ্বোধন করেন। পরে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে এর নাম পরিবর্তন করে ভাসানী হল রাখা হয়।
একসময় জেলার নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রধান ভেন্যু ছিল ভাসানী হল। প্রতিবছর ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল আসত, হতো নাট্যোৎসব। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন একে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। হলটির দেয়ালে বড় ফাটল ধরে, ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে।
টাঙ্গাইলের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তরুণ ইউসুফ বলেন, টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী বলা হয়। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক নগরীর জন্য একটি সুন্দর মানসম্মত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই। একসময় ভাসানী হল ঘিরে যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে এক যুগ আগেই। তাই দ্রুত ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুত এই ঐতিহাসিক হলটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
"টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী বলা হয়। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক নগরীর জন্য একটি সুন্দর মানসম্মত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই। একসময় ভাসানী হল ঘিরে যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে এক যুগ আগেই। তাই দ্রুত ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল শহর, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তরুণ ইউসুফ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ শতাংশ, ১৬ আগস্ট, ২ এপ্রিল, ১২ জুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!