📌 নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্রিটিশ আমলের টেলিগ্রাফ অফিস ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারিভাবে সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের দেড় শ বছরের পুরোনো টেলিগ্রাফ অফিস ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকির অভাবে প্রভাবশালীরা মূল্যবান ভূসম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সৈয়দপুর টেলিগ্রাফ অফিস ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবনের বয়স দেড় শতাধিক বছর
- 📌 স্বাধীনতার পর ভবনটি বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগ, বিটিটিবি এবং সর্বশেষ বিটিসিএলের অধীনে ছিল
- 📌 বিংশ শতাব্দীর শুরুতে উত্তরবঙ্গ ও আসাম অঞ্চলের প্রধান ম্যানুয়াল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ হিসেবে ব্যবহৃত হতো
- 📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আসাম সীমান্তে জাপানি সেনাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হতো
- 📌 স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের মূল্যবান সম্পত্তি প্রভাবশালীরা দখলের চেষ্টা করছে
📰 বিস্তারিত
সৈয়দপুর শহরের দেড় শ বছরের পুরোনো টেলিগ্রাফ অফিস ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকির অভাবে প্রভাবশালীরা মূল্যবান ভূসম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে।
১৮৭০ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার পর এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের শিয়ালদহ-শিলিগুড়ি ব্রডগেজ লাইনের প্রধান জংশন ছিল সৈয়দপুর। এই লাইনের ট্রেন চলাচল ও সিগন্যালের বার্তা আদান-প্রদানের জন্য স্টেশনের পাশেই প্রায় এক একর জমির ওপর টেলিগ্রাফ অফিসটি নির্মাণ করা হয়। চুন-সুরকি, পোড়ামাটির লাল ইট এবং ভারী লোহার বিম দিয়ে নির্মিত ভবনটির খিলান আকৃতির দরজা-জানালা এখনও এর প্রাচীন ঐতিহ্যের জানান দেয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ভবনটি উত্তরবঙ্গ ও আসাম অঞ্চলের প্রধান ম্যানুয়াল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আসাম সীমান্তে জাপানি সেনাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এবং ব্রিটিশ সেনাদের রসদ সরবরাহের বার্তা আদান-প্রদানে এই অফিসটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হতো। স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, চারপাশের মূল্যবান জমি দখলের মুখে পড়েছে। রাতের আঁধারে ভবনের ভেতরের পুরোনো লোহালক্কড় ও দামি ইট চুরি হয়ে যাচ্ছে।
"ভবনটি কেবল একটি সাধারণ স্থাপনা নয়, এটি এ অঞ্চলের যোগাযোগের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৈয়দপুর, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল মুনতাকিম (সংসদ সদস্য), বরকত উল্লাহ বুলু (বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দেড় শতাধিক বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!