📌 সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে ৪ হাজার ৫০০ বৃক্ষনিধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানানো হয়
সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে অবৈধ বৃক্ষনিধনের বিরুদ্ধে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে বন বিভাগের অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে ৪ হাজার ৫০০ বৃক্ষনিধনের বিরুদ্ধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- 📌 সমাবেশ থেকে অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিনের বক্তব্য: সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির অধীনে গাছ কাটা হয়েছে
- 📌 সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন: বৃক্ষনিধন বন্ধ, ক্ষতিপূরণ, তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
- 📌 আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৃক্ষনিধন বন্ধ না হলে অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে অবৈধ বৃক্ষনিধনের বিরুদ্ধে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় ইচ্ছারচর বাজার এতিমখানা-সংলগ্ন সাচনা রোডে আয়োজিত এই সমাবেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয়দের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসান, স্থানীয় সামাজিক বনায়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নারী সদস্য ও স্থানীয় পরিবেশ সচেতন সাধারণ জনগণ।
সমাবেশে বক্তারা জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ওই সড়কে বর্তমানে কোনো উন্নয়ন কাজ চলমান নেই। অথচ বন বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে এক হাজারের অধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে উজাড় করছে। এটি উন্নয়নমূলক কোনো প্রয়োজন নয়, বরং বন বিভাগের একটি অসাধু চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলে এই গণ-বৃক্ষনিধনে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
"সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ওই সড়কে লাগানো গাছগুলোর বয়স ২৪-২৫ বছর হয়ে গেছে। অনেক গাছ মরে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে। সাধারণত ১০-১১ বছর পরপর গাছ কেটে আবার নতুন করে লাগানোর কথা। অন্য স্থানীয় অংশীজনেরা গাছ কাটার জন্য তাগিদ দিচ্ছিলেন। দেড় বছর আগে নাম্বারিং করে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। নানা কারণে ওই সময়ে কাটা হয়নি, এখন কাটা হচ্ছে।"
বন বিভাগ সুনামগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১০ শতাংশ অর্থ নতুন গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ থাকবে। তবে কবে কখন গাছ লাগানো হবে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, গাছ কাটার নেপথ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার ভেতরে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জ জেলা, সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রিয়াজ উদ্দিন (বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা), মো. রাজু আহমেদ (হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি), এম ডি জাকারিয়া (মিডিয়া সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার ৫০০ (বৃক্ষনিধন), ২৪-২৫ বছর (গাছের বয়স), ১০ শতাংশ (ক্ষতিপূরণ অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!