📌 সিলেটের কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে নির্মিত ৪৫০টি ট্রাক রাখার ব্যবস্থা থাকলেও মাত্র ১৪টি ট্রাকই নিয়মিত পার্ক করা হয়। চালকদের অনাগ্রহ, দূরত্ব ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে এই ১৯ কোটি টাকার প্রকল্প অব্যবহৃত রয়েছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবহারের জন্য চিন্তা করছে
সিলেটের কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে নির্মিত ১৯ কোটি টাকার অবকাঠামো অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে ট্রাক রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকলেও চালকদের অনাগ্রহ ও দূরত্বের কারণে মাত্র ১৪টি ট্রাকই নিয়মিত পার্ক করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায় — ক্রিকেট খেলার মতো মাঠে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করছিলেন চালক ও যুবকরা। তবে আসলে সেখানে কোনো ক্রিকেট খেলা চলছিল না, বরং ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো ব্যবহারের অভাবের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই দৃশ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে নির্মিত ৪৫০টি ট্রাক রাখার ব্যবস্থা থাকলেও মাত্র ১৪টি ট্রাকই নিয়মিত পার্ক করা হয়।
- 📌 চালকদের অনাগ্রহ, দূরত্ব (৮-৯ কিলোমিটার) ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে টার্মিনালে ট্রাক রাখা হয় না।
- 📌 ১৯ কোটি টাকায় নির্মিত এই টার্মিনালের উদ্বোধন ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর হয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময় তা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে।
- 📌 চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) টার্মিনালের ইজারা ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায় দেওয়া হয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক কম।
- 📌 সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালের আয়তন ৮ একর ৭৭ শতক, কিন্তু চালকদের জন্য কোনো সুবিধা নেই।
📰 বিস্তারিত
সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের অবস্থান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইরচক এলাকায়, যা সিলেট নগরের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে। এই দূরত্বের কারণে চালকদের মধ্যে টার্মিনালে ট্রাক রাখার অনাগ্রহ দেখা যায়। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, টার্মিনালটি শহর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় চালকরা সেখানে ট্রাক রাখতে চান না। তিনি বলেন, “কীভাবে টার্মিনালটি কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।”
টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালে। নির্মাণে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যার মধ্যে জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও চালকদের বিশ্রামের জন্য দোতলা ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর টার্মিনালটির উদ্বোধন করা হয়। তবে এরপর থেকে বেশিরভাগ সময় টার্মিনালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে।
চালকদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাক রাখার কারণে যানজট ও দুর্ভোগ তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালটি সেই চাপ কমাতে কাজে আসছে না। পাঁচজন ট্রাকচালক জানান, টার্মিনালের অবস্থান দূরে হওয়ায় সেখানে ট্রাক রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তারা বলেন, “আমরা নগরের বিভিন্ন স্থানে যেমন কালীঘাট পাইকারি বাজার, কিনব্রিজ এলাকা, সোবহানীঘাট সবজি বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক রাখি। কিন্তু সেখানে থেকে টাকা আদায় করা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে টার্মিনালে ট্রাক রাখার আগ্রহ কমেছে।”
"টার্মিনালটি শহর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে ট্রাক পার্ক করতে চান না চালকেরা। কীভাবে টার্মিনালটি কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।"
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, টার্মিনালের আয়তন ৮ একর ৭৭ শতক। তবে চালকদের জন্য কোনো বসতি, রেস্তোরাঁ বা আবাসনের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া টার্মিনালের আশপাশে নিরিবিলি এলাকা হওয়ায় চালকরা সেখানে ট্রাক রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কর শাখার কর্মকর্তা বলেন, “গত দুই অর্থবছর ধরে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় টার্মিনাল এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য ১০ দিনের পৃথক ইজারা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় টার্মিনালে কোনো ট্রাক রাখা হয় না।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা, পারাইরচক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. লায়েক, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, আরিফুল হক চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ কোটি টাকা (নির্মাণ খরচ), ৪৫০টি ট্রাক (রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতা), ১৪টি ট্রাক (নিয়মিত পার্ক করা), ৮ একর ৭৭ শতক (টার্মিনালের আয়তন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!