📌 সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চার কোটি টাকার সেতু নির্মাণ পাঁচ বছর ধরে চললেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় লোহার পাটাতন বেয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের যাতায়াতে বড়ো বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় খাসিয়ামারা নদীর আলিপুর-টেংরাটিলা এলাকায় নির্মিত চার কোটি টাকার সেতু পাঁচ বছর ধরে নির্মাণের পরও কার্যকর হচ্ছে না। সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুতে উঠতে লোহার পাটাতন বেয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য এটা দৈনন্দিন জীবনে বড়ো বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় নির্মিত ৭৫ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ ব্যয় ছিল চার কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা
- 📌 ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে বিলম্বের কারণে সেতু কার্যকর হচ্ছে না
- 📌 ২০ ফুট উচ্চতার লোহার পাটাতন বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে কষ্টসাধ্য
- 📌 স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন টেংরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিনভাবে পাটাতন বেয়ে সেতু পার করছেন
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমানের মতে, সেতু নির্মাণের পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা আগে নদী পারাপারের প্রধান মাধ্যম ছিল
- 📌 দোয়ারাবাজার এলজিইডির কর্মকর্তা জানান, পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে এবং সংযোগ সড়কের কাজ চার-পাঁচ মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীর আলিপুর-টেংরাটিলা এলাকায় নির্মিত সেতুটি ৫০০ মিটার চেইনেজে অবস্থিত। সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। তবে নির্মাণের শুরু থেকেই স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। স্থানীয়রা জানান, সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভাবের কারণে সেতুটি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য যাতায়াতে বড়ো বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে।
দোয়ারাবাজার এলজিইডির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা (নাম প্রকাশের শর্তে) বলেন, ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনায় সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। তিনি আরও বলেন, কাজ বন্ধ না রাখলে আরো দুই বছর আগেই সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত। তবে ঠিকাদার শংকর বাবুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, সেতু এখন উল্টো বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, "স্টিলের মই বেয়ে সেতুতে উঠে এরপর আবার মই দিয়ে সেতু থেকে নামতে হচ্ছে।" স্থানীয়রা জানান, আগে নদী পারাপারের জন্য নৌকা ব্যবহার করা হত। সেতু নির্মাণের পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সেতুতে উঠতে হয় অন্তত ২০ ফুট উচ্চতার পাটাতন বেয়ে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আবদুল হামিদ নিজ দফতরের উপর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে এপ্রোচের কাজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হবে।"
"পাঁচ বছর ধরে সেতুটির নির্মাণ কাজ করা হলেও সংযোগ সড়ক করা হয়নি এখনো। সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকির অভাব, কাজে অবহেলা আর দুর্নীতিগস্ত হওয়াতে মানুষের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা, আলিপুর-টেংরাটিলা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মশিউর রহমান, মুহিবুর রহমান মানিক, এলজিইডি কর্মকর্তা (অনামধারক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা (সেতু নির্মাণ ব্যয়), ২০ ফুট (পাটাতন উচ্চতা), ৫০০ মিটার (সেতুর দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!