📌 মাদারীপুরের চরমুগরিয়া ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় স্থানীয়রা বাধা দিচ্ছেন। কোটি টাকার প্রকল্পের মালামাল চুরি হচ্ছে, স্থাপনাগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে
মাদারীপুরের চরমুগরিয়া ইকোপার্কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিচ্ছেন। প্রকল্পের মালামাল চুরি হচ্ছে, স্থাপনাগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে এবং ঝোপজঙ্গলে ঢাকা পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩৬ কোটি টাকার প্রকল্পে** নির্মাণ বন্ধ, ৮০% কাজ শেষ হলেও বাধা দিয়েছে ২৪টি পরিবার
- 📌 **মাত্র একটি পরিবার** পেয়েছে ক্ষতিপূরণ, বাকি ২৩টি পরিবার এখনো টাকা পায়নি
- 📌 **ইকোপার্কের মালামাল চুরি** ও স্থাপনাগুলো বেহাল, ঝোপজঙ্গলে ঢাকা পড়েছে
- 📌 **নাম প্রকাশ না করার শর্তে** ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, "ক্ষতিপূরণ না পেলে আর বাধা দেব না"
- 📌 **১০.৩৬ একর জায়গায়** নির্মিত ইকোপার্কে রয়েছে পিকনিক স্পট, অফিস ভবন, বানর চিকিৎসাকেন্দ্রসহ ১০টি প্রধান স্থাপনা
📰 বিস্তারিত
মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া কুমড়াখালী মৌজার কুমার নদের তীরে নির্মিত হওয়া ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ফরিদপুর সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম অনুমোদিত খরচ ছিল ৩১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা। পরে প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে ৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্প আধুনিকীকরণে দ্বিতীয় সংশোধনে নির্মাণ খরচ বেড়ে ৩৬ কোটি ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা করা হয়।
২০২০ সালে নির্মাণ শুরু হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে পুনরায় কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়। মাদারীপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানোর পরে ক্ষতিপূরণের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বদলিসহ জটিলতায় অন্যরা টাকা পায়নি।
ইকোপার্কের ভেতরে রয়েছে চারটি পিকনিক স্পট, পানির ট্যাংক, অর্কিড হাউস, দুটি টয়লেট জোন, স্টাফ জোন, তিনতলা অফিস ভবন, বানরদের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্র, চিলড্রেন কর্নারসহ অন্যান্য স্থাপনা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব স্থাপনা বেহাল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন নির্মাণ বন্ধ থাকায় চারপাশ ঝোপজঙ্গলে ভরে গেছে। এদিকে নেশাখোররা সেখানে আড্ডা জমাচ্ছে।
"আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তাই নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছি। কারণ, একবার কাজ শেষ হয়ে গেলে আর কোনো টাকা পাব না।"
ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় স্থানীয়রা বাধা দিচ্ছেন। মাদারীপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিপূরণের টাকা ২০২৩ সালের জুন মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অন্যরা টাকা পায়নি। নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বাধায় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাদারীপুর সদর উপজেলা, চরমুগরিয়া কুমড়াখালী মৌজা, কুমার নদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জাহাঙ্গীর আলম (মাদারীপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা), ক্ষতিগ্রস্ত ২৪টি পরিবার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ কোটি ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা (প্রকল্প খরচ), ১০.৩৬ একর (জমির পরিমাণ), ২৪টি পরিবার (ক্ষতিগ্রস্ত), ৮০% (কাজের সম্পন্নতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!