📌 শ্রীমঙ্গলে কাগজে-কলমে মাত্র দুইটি বালুমহালের ইজারা থাকলেও বাস্তবে ২৬টি পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সড়ক-সেতু ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা হামলা ও সংঘর্ষের শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের অভিযানেও বালু উত্তোলনকারীরা থামছে না
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩০টিরও বেশি পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ছে। কাগজে-কলমে মাত্র দুইটি বালুমহালের ইজারা থাকলেও বাস্তবে ২৬টি ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। এই অবৈধ কার্যক্রমের ফলে ছড়াগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তীরভাঙন, কৃষিজমির ক্ষয় এবং বসতবাড়ির হুমকি বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রীমঙ্গলে কাগজে-কলমে **২টি** বালুমহালের ইজারা থাকলেও বাস্তবে **২৬টি** পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে — বর্মাছড়া, উদনাছড়া, হরিণছড়া, পুটিয়াছড়া, বিলাশছড়া, ফুলছড়া, কাকিয়াছড়া, আমরাইলছড়া, ইছামতিছড়া, ভুড়ভুড়িয়া, জাগছড়া, সুনাছড়া, নারাইনছড়া, বৌলাছড়া, গিলাছড়া, শিয়ালছড়া ও খাইছড়াসহ ১৭টি ছড়া থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে।
- 📌 **১৮টি অভিযানে** ১ লাখ ২০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং পাঁচজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বালু উত্তোলনকারীরা থামছে না। জব্দকৃত বালু নিলামে **২ লাখ ৭০ হাজার ২৫০ টাকা** রাজস্ব আয় হয়েছে।
- 📌 **২ নভেম্বর** পর্যন্ত সময়ে অভিযান চালানো হলেও সদর, সিন্দুরখান, আশিদ্রোন, সাতগাঁও, ভূনবীর, মির্জাপুর ও কালাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ছড়া থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন চলছে।
- 📌 **২ মে** ভূনবীর ও মির্জাপুর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে **২০ জনের বিরুদ্ধে** মামলা করা হয়েছে।
- 📌 **অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায়** সংঘর্ষ, হামলা ও সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি একটি বালুবাহী ডায়না গাড়ির চাপায় ছয়জন আহত হন এবং ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরাও হামলার শিকার হন।
📰 বিস্তারিত
শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি ছড়াগুলোই এখানকার প্রাণ ও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। তবে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়াগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন। প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সামান্য অর্থদণ্ড দিয়েই দায় সারছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযান শেষে অল্প কিছু টাকা জরিমানা গুনে শক্তিশালী চক্রগুলো আবারও শুরু করে বালু তোলা। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে এবং কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশকর্মী **তাপস দাশ** বলেছেন, পাহাড়ি ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে তীরভাঙন, কৃষিজমির ক্ষয়, সড়ক ও সেতুর ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা **মো. জিয়াউর রহমান** বলেছেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষিজমি সুরক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষিজমি সুরক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।"
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট **মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম** বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীমঙ্গল উপজেলা (মৌলভীবাজার), বর্মাছড়া, উদনাছড়া, হরিণছড়া, পুটিয়াছড়া, বিলাশছড়া, ফুলছড়া, কাকিয়াছড়া, আমরাইলছড়া, ইছামতিছড়া, ভুড়ভুড়িয়া, জাগছড়া, সুনাছড়া, নারাইনছড়া, বৌলাছড়া, গিলাছড়া, শিয়ালছড়া, খাইছড়া, সদর, সিন্দুরখান, আশিদ্রোন, সাতগাঁও, ভূনবীর, মির্জাপুর, কালাপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাপস দাশ, মো. জিয়াউর রহমান, মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম, হিমেল পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬টি পাহাড়ি ছড়া, ৩০টি ছড়া, ১৮টি অভিযান, ১ লাখ ২০০ টাকা জরিমানা, ২ লাখ ৭০ হাজার ২৫০ টাকা রাজস্ব, ২০ জন মামলায় অভিযুক্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!