📌 সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুনকুনিয়া গ্রামের চুনিয়াপাড়া এলাকায় শতাব্দী পুরানো শামুক-ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিলুপ্তির পথে। ঝিনুক সংকট, উপকরণ মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির খরচ বাড়ায় কারিগরদের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ হিসেবে পরিচিত পানের সাথে জড়িত একটি প্রাচীন শিল্প বিলুপ্তির পথে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুনকুনিয়া গ্রামের চুনিয়াপাড়া এলাকায় শতাব্দী পুরানো শামুক-ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এই এলাকায় বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পের কারিগররা বলছেন, ঝিনুক সংকট, উপকরণ মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির খরচ বাড়ায় তাদের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুনকুনিয়া গ্রামের চুনিয়াপাড়া এলাকায় শতাধিক পরিবার চুন তৈরির পেশায় জড়িত ছিল, কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র কয়েকটি পরিবারই এই পেশা ধরে রেখেছে
- 📌 ৫০ কেজি চূর্ণ বিচূর্ণ শামুক-ঝিনুক থেকে প্রায় ১৬০ কেজি খাওয়ার চুন তৈরি হয়, কিন্তু রাসায়নিক কেমিক্যাল মেশানো হয় না
- 📌 এক মণ চুন তৈরি করতে খরচ লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, আর বিক্রি করে আয় হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা
- 📌 জলাশয় কমে যাওয়ায় ঝিনুক সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে, যা চুন তৈরির মূল উপকরণ
- 📌 স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে উন্নত করা সম্ভব
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের পান সংস্কৃতির সাথে জড়িত একটি প্রাচীন শিল্প বিলুপ্তির পথে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুনকুনিয়া গ্রামের চুনিয়াপাড়া এলাকায় শতাব্দী পুরানো শামুক-ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এই এলাকায় বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পের কারিগররা বলছেন, ঝিনুক সংকট, উপকরণ মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির খরচ বাড়ায় তাদের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
চুনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশাবালী বলেছেন, ‘আমরা যারা চুন তৈরি করি, আঞ্চলিক ভাষায় একে চুন্নিটা বলা হয়। এই চুন তৈরি করতে প্রথমে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। গ্রামের আশপাশের নদী ও খাল বিল থেকে বা স্থানীয় হাট বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। তারপর শামুক-ঝিনুকগুলো মাটির তৈরি খড়ির চুলায় পুড়িয়ে বড় একটি পাত্রে উঠিয়ে তা ৩ থেকে ৪ ঘন্টা ফুটানো হয়। ফোটানোর পর ৫০ কেজি চূর্ণ বিচূর্ণ শামুক-ঝিনুক থেকে প্রায় ১৬০ কেজি খাওয়ার চুন পাওয়া যায়।’
কারিগর সোবাহান বলেছেন, ‘একসময় নদী-নালা খাল-বিল ও জলাশয় ছিল অনেক বেশি। তখন জলাশয়ে ব্যাপক হারে শামুক-ঝিনুক পাওয়া যেত। তখন চুনের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের মাত্রা ছিল বেশ। স্বল্প মজুরি ও সহজলভ্য কাঁচামালে চুন উৎপাদন করে ভালোই চলছিল আমাদের সংসার। তবে কালের বিবর্তনে কাজীপুরে হারিয়ে যাচ্ছে শামুক-ঝিনুকের চুন উৎপাদনের কুটিরশিল্প।’
কারিগর আয়নাল হক ও তার স্ত্রী জাহানারা খাতুন বলেছেন, ‘আমাদের বাপ-দাদারা এই কাজ করে গেছেন। আমরাও অনেক কষ্ট করে এটি ধরে রেখেছি। ঝিনুক সংগ্রহ করতে আগের চেয়ে বেশি কষ্ট হলেও এই চুনই আমাদের জীবন-জীবিকার অবলম্বন।’
"বর্তমানে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগের মতো সহজে ঝিনুক পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে উপকরণ ও জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফলে চুন তৈরির খরচ অনেক বেড়ে গেছে।"
মোকছেদ আলী বলেছেন, ‘এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে সরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বলেছেন, ‘ছোট ছোট এ ধরনের শিল্পের প্রসারে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা, কুনকুনিয়া গ্রাম, চুনিয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশাবালী, সোবাহান, আয়নাল হক, জাহানারা খাতুন, মোকছেদ আলী, শাহনাজ পারভীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ কেজি শামুক-ঝিনুক → ১৬০ কেজি চুন; ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ; ৪০-৫০ হাজার টাকা আয়; ৩-৪ ঘন্টা ফুটানো
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!