📌 পৃথিবীর কক্ষপথে জমে থাকা মহাকাশ আবর্জনা সরাতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন অভিনব উপায় উদ্ভাবন করেছেন। গিরগিটির পায়ের আদলে তৈরি স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে লেজার কামান পর্যন্ত রয়েছে তাঁদের পরিকল্পনা
পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বেড়ানো মহাকাশ আবর্জনা এখন এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতিল স্যাটেলাইট, রকেটের ভাঙা অংশ আর মহাকাশচারীদের ব্যবহৃত সরঞ্জামের টুকরোগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় আট কিলোমিটার গতিতে ঘুরছে। বর্তমানে মহাকাশে ১ সেন্টিমারের চেয়ে বড় অন্তত ১২ লাখ আবর্জনার টুকরা ভাসছে, যা চলন্ত স্যাটেলাইট বা মহাকাশ স্টেশনের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন অভিনব উপায় উদ্ভাবন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহাকাশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় আট কিলোমিটার গতিতে ঘুরছে ১২ লাখের বেশি আবর্জনার টুকরা
- 📌 জার্মানির বিজ্ঞানীরা গিরগিটির পায়ের আদলে তৈরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবর্জনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছেন
- 📌 ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা মহাকাশযানের চারটি রোবোটিক হাত ব্যবহার করে আবর্জনা ধরে আনবে
- 📌 যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা মহাকাশ হারপুন পরীক্ষায় সফল হলেও এখনো ব্যবহার শুরু হয়নি
- 📌 জাপানের বিজ্ঞানীরা মহাকাশে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন
- 📌 নাসার গবেষকেরা পৃথিবী থেকে লেজার ব্যবহার করে আবর্জনার গতিপথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন
- 📌 জাপান মহাকাশ সংস্থা ভবিষ্যতের স্যাটেলাইটে ৭০০ মিটার দীর্ঘ পরিবাহী তার ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে
📰 বিস্তারিত
মহাকাশ আবর্জনা সরাতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন অভিনব উপায় উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো গিরগিটির পায়ের আদলে তৈরি স্যাটেলাইট। জার্মানির একদল বিজ্ঞানী গেঁকো গিরগিটির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ ক্ষমতার আদলে একটি কৃত্রিম চামড়া তৈরি করেছেন। এই চামড়া দিয়ে তৈরি স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো আবর্জনার গায়ে শক্ত হয়ে আটকে যাবে। পরে সেটিকে টেনে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নামিয়ে এনে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, একটি লম্বা দড়ির মাথায় আঠালো উপাদান বেঁধে মহাকাশে ছুড়ে মারার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা মহাকাশ আবর্জনা সরাতে একটি বিশেষ মহাকাশযান তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই মহাকাশযানে থাকবে চারটি রোবোটিক হাত বা শুঁড়। ২০২৯ সালে এটি মহাকাশে গিয়ে অচল হয়ে পড়া ‘প্রোবা-১’ স্যাটেলাইটকে চেপে ধরে নিচে নামিয়ে আনবে। যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা মহাকাশ হারপুন নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরির পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এই হারপুন প্রতি সেকেন্ডে ২০ মিটার গতিতে ছুটে গিয়ে আবর্জনাকে গেঁথে ফেলবে।
জাপানের বিজ্ঞানীরা মহাকাশ আবর্জনা সরাতে লেজার প্রযুক্তির ব্যবহার প্রস্তাব করেছেন। তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি বিশেষ স্যাটেলাইটে ৫ লাখ ওয়াটের শক্তিশালী লেজার বসানো হবে। এই লেজার আবর্জনা লক্ষ্য করে মারবে এবং আবর্জনাগুলো ভেঙে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হবে। পরে এগুলো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। অন্যদিকে, নাসার গবেষকেরা পৃথিবী থেকে শক্তিশালী লেজার ব্যবহার করে আবর্জনার গতিপথ সামান্য পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন।
ভবিষ্যতের স্যাটেলাইটগুলোতে ব্যবহারের জন্য জাপান মহাকাশ সংস্থা ৭০০ মিটার দীর্ঘ বিশেষ পরিবাহী তার তৈরির পরিকল্পনা করেছে। স্যাটেলাইটের মেয়াদ শেষ হলে এই তারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের টানে স্যাটেলাইটটি নিচে নেমে এসে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
"মহাকাশ আবর্জনা সরাতে বিভিন্ন অভিনব উপায় উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে রয়েছে গিরগিটির পায়ের আদলে তৈরি স্যাটেলাইট, রোবোটিক হাত, হারপুন, লেজার প্রযুক্তি এবং পরিবাহী তার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পৃথিবীর কক্ষপথ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ, ৭০০ মিটার, ৫ লাখ ওয়াট, ২০ মিটার/সেকেন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!