📌 গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন বছর পরও ১১ হাজারাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের পরিবার জানেন না যে স্বজনরা জীবিত, আটক, নিহত বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৫০০ থেকে ৩০০০ জনকে জোরপূর্বক গুমের শিকার বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিন বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারদের জীবন শোক ও অজ্ঞাততার মধ্যে কাটছে।
গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন বছর পরও নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় আছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। ইসরায়েলি অভিযান, বোমা হামলা, ত্রাণের সন্ধানে বেরিয়ে যাওয়া বা ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি অনেকের স্বজন। তাদের পরিবার জানেন না যে স্বজনরা জীবিত, আটক, নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বা অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায় রয়েছেন। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারাধিক মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়ার সন্দেহে রয়েছেন অনেক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন বছর পরও ১১ হাজারাধিক মানুষ নিখোঁজ, তাদের পরিবার অজ্ঞাত শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে
- 📌 ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার বলে সন্দেহ করা হচ্ছে
- 📌 গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি
- 📌 নিদাল আল-ওয়াহিদির মা-বাবা তিন বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায় বসে আছেন, বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর ছেলের ছবিই তাদের একমাত্র স্মৃতি
- 📌 সাঈদ হাজ্জাজের পরিবার বাবা ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে কোনো সন্ধান পায়নি, মা-মেয়ের হৃদ্রোগ ও দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় আছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। তাদের মধ্যে অনেকের স্বজন ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় নিজ এলাকা বা আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। কেউ ত্রাণের সন্ধানে বেরিয়ে গিয়ে ফিরে আসেননি, কেউ বাড়িঘরের খোঁজ নিতে গিয়ে আর ফিরেননি। নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় এসব পরিবার এক অনিশ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তারা জানেন না, স্বজনেরা বেঁচে আছেন কি না, আটক হয়েছেন কি না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কি না, বা অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায় রয়েছেন কি না।
স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারাধিক মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়ার সন্দেহে রয়েছেন অনেক। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের হিসাবে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এসব মানুষের পরিণতি এখনো অজানা। গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গাজায় ফেরত দেওয়া প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি।
নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারদের জীবন শোক ও অজ্ঞাততার মধ্যে কাটছে। তারা জানেন না যে স্বজনরা জীবিত, আটক, নিহত, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বা অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায় রয়েছেন। ফলে শোক করবেন, নাকি ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করবেন, সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।
"আমাদের করার মতো কিছু নেই। শুধু ছেলের ছবি দেখি আর অপেক্ষা করি। তিন বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষা করেছি এবং ছেলের কোনো খবর পাওয়ার আশা করেছি।"
মধ্য গাজা শহরের আল-নাফাক সড়কের একটি ছোট তাঁবুতে বসে মোবাইল ফোনে ছেলের ছবি দেখেন নিদাল আল-ওয়াহিদির মা-বাবা। বাড়িতে বোমা হামলায় তাঁদের ঘরবাড়ি ও ছেলের জিনিসপত্র ধ্বংস হওয়ার পর এসব ছবিই এখন তাঁদের কাছে নিদালের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম। নিদাল ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তর গাজার এরেজ ক্রসিং এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। ওই এলাকায় হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সাঈদ হাজ্জাজ (৫৯) এবং তাঁর ছেলে কাসেম হাজ্জাজ (১৭) ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। মধ্য গাজা শহরের ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন সাঈদের স্ত্রী মোনা হাজ্জাজ (৫২)। রাতে ঘুমানোর আগে হৃদ্রোগের ওষুধ খাওয়ার পর দুই মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও ছেলের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। তাঁদের মেয়ে নিসরিন হাজ্জাজ (৩৫) বলেন, ‘আমার বাবা ও ছোট ভাইকে হারানোর কষ্টে আমরা সব সময় শোকের মধ্যে আছি। আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মিষ্টিও খাইনি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, আল-নাফাক সড়ক, মধ্য গাজা শহর, উত্তর গাজা, ফিলিস্তিন স্টেডিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিদাল আল-ওয়াহিদি, সুহাইল আল-ওয়াহিদি, সাঈদ হাজ্জাজ, কাসেম হাজ্জাজ, মোনা হাজ্জাজ, নিসরিন হাজ্জাজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ হাজার (নিখোঁজ), ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার (জোরপূর্বক গুমের শিকার), ৬২০ (মরদেহ), ৭ অক্টোবর (২০২৩), ২৬ ডিসেম্বর (২০২৩)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!