📌 সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক অধিকার কিনা বা বাণিজ্যিক সুযোগ কিনা — এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় উঠে আসে বাংলাদেশের ৬১% মানুষের নিরাপদ পানির অভাবের সমস্যা। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষই নিরাপদ পানি পান করতে পারছে।
সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক অধিকার কিনা বা বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারজাত করা যেতে পারে কিনা — এই প্রশ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে আজ শনিবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বাংলাদেশের ৬১ শতাংশ মানুষের নিরাপদ পানির অভাবের সমস্যা এবং সরকারের দায়িত্বের প্রশ্ন তুলে ধরেন। রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও আইনেরকথা কম যৌথভাবে এই আলোচনা সভা আয়োজন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬১ শতাংশ মানুষের পানির অভাব**: বাংলাদেশের মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষই নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পাচ্ছে, অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের নিরাপদ পানির সুযোগ বঞ্চিত।
- 📌 **পৌরসভার অপূর্ণতা**: দেশে চারটি ওয়াসা থাকলেও পাঁচশতাধিক পৌরসভা রয়েছে, যা নিরাপদ পানির সরবরাহে সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নে তুলে ধরে।
- 📌 **পানিতে জীবাণুর উপস্থিতি**: অনেক এলাকায় পানিতে ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক।
- 📌 **বাণিজ্যিকীকরণের প্রশ্ন**: জীবনধারণের মৌলিক উপাদান পানির ওপর ভ্যাট আরোপ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 **আন্তর্জাতিক উদাহরণ**: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লিন্ট শহরের পানি সংকটের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, জনগণের সচেতনতা ও সংগঠিত হওয়া রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে প্রতিরোধ করতে পারে।
📰 বিস্তারিত
আলোচনা সভায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক উপাদান হলেও দেশের উপকূলীয়, হাওর, পার্বত্য ও নিম্নাঞ্চলের বসতিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির সুযোগ সমান নয়। তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও পানির সুযোগে বৈষম্য রয়েছে। ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘দেশের মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পায়। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগবঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে পানিতে ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতিও রয়েছে।’
বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইয়াজউদ্দিন বলেন, ‘দেশে চারটি ওয়াসা রয়েছে, অন্যদিকে পৌরসভা পাঁচশতাধিক। এই কাঠামো দেশের মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে কতটা সক্ষম, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। জীবনধারণের মৌলিক উপাদান পানির ওপর ভ্যাট আরোপ কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।’
বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তানভীর ইসলাম বলেন, ‘ওয়াসার মাধ্যমে পানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সরকারের সেবার আওতার বাইরে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পানি সংগ্রহের উৎস অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ। পানি সরবরাহ ও শুদ্ধিকরণে সরকারকে দায় নিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেট ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো ও অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর ড. জাকিয়া আফরিন বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ফ্লিন্ট শহরের পানি সংকটের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণ সংগঠিত হয়ে ভূমিকা রেখেছিল। পানির বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন করপোরেশন কী পরিমাণ পানি ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোর পানির ব্যবহার ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান ও আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক আরিফ খান বলেন, ‘সুপেয় পানি জনগণের সম্পদ। পানির ওপর জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায় রয়েছে। এ দায় বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
"সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক উপাদান হলেও দেশের উপকূলীয়, হাওর, পার্বত্য ও নিম্নাঞ্চলের বসতিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির সুযোগ সমান নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও পানির সুযোগে বৈষম্য রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম লেকচার হল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ (ওয়াটারএইড বাংলাদেশ), তানভীর ইসলাম (বুয়েট), ড. জাকিয়া আফরিন (গোল্ডেন গেট ইউনিভার্সিটি), আরিফ খান (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬১ শতাংশ (পানির অভাবগ্রস্ত), ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ (নিরাপদ পানি পানকারী), ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ (সুযোগবঞ্চিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!