📌 রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি শাস্তি মেনে নেবেন। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য গভীর তদন্তের প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যদি তার ছেলে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি ছেলের শাস্তিও মেনে নেবেন। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস গ্রেফতার হন
- 📌 সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস জানান, ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি শাস্তি মেনে নেবেন
- 📌 ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ বাড়িতে ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন তার বাবা
- 📌 পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করছিলেন এবং শিক্ষকের প্রতিবাদে হত্যাকাণ্ড ঘটান
- 📌 সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস রোববার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যদি তার ছেলে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি ছেলের শাস্তিও মেনে নেবেন। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
বিনয় দাস বলেন, ‘শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে পুলিশসহ অনেক লোক জড়ো হয়। ভোররাতে পুলিশ এসে সিদ্ধার্থের খোঁজ করে। আমি ওকে চাচার বাড়ি থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই।’ তিনি আরও জানান, তার ছেলে ভালো ছিল এবং তিনি তাকে কখনও মাদক সেবন করতে দেখেননি।
তিনি এলাকায় মাদকাসক্ত যুবকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে বলেন, ‘কবে থেকে সে ভেতরে ভেতরে নেশার জগতে প্রবেশ করল, বুঝতেই পারলাম না।’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আরও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিদ্ধার্থের বাবা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘চারটি মানুষকে দুজন যুবক কীভাবে হত্যা করতে পারে? এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে উদঘাটন করা দরকার।’
সিদ্ধার্থের মা পাপড়ী দাসও তার ছেলেকে ‘খুব ভালো’ দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাদক সেবন করতে কখনও দেখিনি।’ নিকট প্রতিবেশী হয়েও এমন ঘটনায় ছেলে জড়িত—এ প্রশ্নের জবাবে বিনয় দাস বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও প্রতিবেশীদের হারালাম। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
‘শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে পুলিশসহ অনেক লোক জড়ো হয়। ভোররাতে পুলিশ এসে সিদ্ধার্থের খোঁজ করে। আমি ওকে চাচার বাড়ি থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার শেষ রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করছিলেন। শিক্ষক বিষয়টি দেখে ফেললে এবং প্রতিবাদ জানালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারা গণপতি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনার পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও শসা খায় এবং আবারও ইয়াবা সেবন করে। তারা বাড়ির গহনা লুটে নেয় এবং সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করার সূত্রে আগুন দিয়ে গলিয়ে আসল-নকল সোনা শনাক্ত করে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। রোববার বিকেলে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিনয় দাস (সিদ্ধার্থ দাসের বাবা), গণপতি চক্রবর্তী (শিক্ষক), সিদ্ধার্থ দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (নিহত সদস্য), ১৬৪ (ধারা), ২০ আগস্ট, ২২ আগস্ট, ২৩ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!