📌 রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, মুখ বিকৃতির কারণ শ্বাসরোধ হলেও কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়নি। প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করা দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২) হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, মৃতদের মুখ বিকৃতির কারণ শ্বাসরোধ হলেও কোনো রাসায়নিক পদার্থ বা অ্যাসিড ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রোববার (২৪ আগস্ট) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক প্রতিবেদনে মুখ বিকৃতির কারণ হিসেবে শ্বাসরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 প্রাথমিকভাবে অ্যাসিড ব্যবহারের ধারণা থাকলেও ফরেনসিক বিভাগ তা নাকচ করে দেয়
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি ল্যাবে পাঠায়
- 📌 দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, রোববার (২৪ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর তারা নিশ্চিত হন যে, মৃতদের মুখ বিকৃতির কারণ শ্বাসরোধ হলেও কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মৃতদের মুখমণ্ডল পচনের কারণে বিকৃত দেখাচ্ছিল। কোনো অ্যাসিড বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের চিহ্ন নেই।’ ডা. বিশ্বাস আরও জানান, ময়নাতদন্তে চোয়াল ভাঙার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাস (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় ধরা পড়লে গণপতি চক্রবর্তী তাদের বকাঝকা করেন। ধরা পড়ার ভয়ে তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। গামছা দিয়ে গলা প্যাঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। মেয়ে আগামী ও ছেলে প্রিয়মকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর খুনিরা বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে, ইয়াবা সেবন করে এবং আসবাবপত্র তল্লাশি করে গহনা সংগ্রহ করে। তারা ডাইনিং টেবিলে খেজুর খেয়ে ফ্রিজ থেকে শসা খায়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা পালিয়ে যায় এবং পরে গ্রেফতার হয়।
‘আমরা সবগুলো মরদেহই ময়নাতদন্ত করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা শ্বাসরোধের মাধ্যমে মৃত্যু হয়েছে। মুখে রাসায়নিক পদার্থ বা অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়ার বিষয়টি পচে যাওয়ার কারণে এমন দেখা যাচ্ছে।’ — ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, রংপুর মেডিকেল কলেজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস, গণপতি চক্রবর্তী পরিবার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চারজন নিহত, দুইজন গ্রেফতার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!