📌 রাঙামাটির গহিন অরণ্যে রাইক্ষং ঝরনা অভিযানে অংশ নিয়ে দুই দিনের ট্রেকিংয়ে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন ছয় অভিযাত্রী। পাহাড়ি পথে টাইগার জোঁকের কামড় আর অকল্পনীয় দৃশ্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের মন ছুঁয়ে গেছে।
রাঙামাটির অজানা সৌন্দর্য রাইক্ষং ঝরনার উদ্দেশ্যে দুই দিনের ট্রেকিং অভিযানে অংশ নিয়েছেন ছয়জন অভিযাত্রী। ভোর সাতটায় বগা লেক থেকে যাত্রা শুরু করে তাঁরা পাহাড়ি পথে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা হেঁটেছেন। দুই হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড় আর দেড় হাজার ফুট নিচের ঢেউখেলানো পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তাঁদের মুখোমুখি হতে হয়েছে টাইগার জোঁকের মতো বিপদজনক সঙ্গীর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাইক্ষং ঝরনা অভিযানে অংশ নিয়েছেন ছয়জন অভিযাত্রী
- 📌 ভোর সাতটায় বগা লেক থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন
- 📌 পথিমধ্যে টাইগার জোঁকের কামড়ে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে
- 📌 বেলা দুইটা বিশ মিনিটে রুমা খালে বিশ্রাম নিয়ে দুপুরের খাবার সারেন
- 📌 রাতে এনোংপাড়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযাত্রীরা
- 📌 পরদিন ভোরে উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে পুকুরপাড়া লেকে পৌঁছান
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির গহিন অরণ্যে লুকিয়ে থাকা রাইক্ষং ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুই দিনের ট্রেকিং অভিযানে নামেন ছয়জন অভিযাত্রী। ভোর সাড়ে ছয়টায় তাঁরা বগা লেক থেকে যাত্রা শুরু করেন। আল্লাহর নাম নিয়ে জুতসই বাঁশের লাঠি সম্বল করে তাঁরা পাহাড়ি পথে নামেন। দুই হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড় আর দেড় হাজার ফুট নিচের ঢেউখেলানো পথ তাঁদের যাত্রাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলতে থাকা চড়াই-উতরাই পথে তাঁরা কখনো বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাননি। কারণ, চারপাশে ছড়িয়ে থাকা টাইগার জোঁক তাঁদের বিরামহীনভাবে অনুসরণ করছিল। কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর তাঁরা নাখজং পাড়ায় পৌঁছান। সেখানে মুরং সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করেন। মুড়ি-চানাচুর তেল দিয়ে মেখে তাঁরা মধ্যাহ্নভোজ সারেন। খাবার শেষে আবার শুরু হয় তাঁদের যাত্রা।
বেলা দুইটা বিশ মিনিটে তাঁরা রুমা খালে পৌঁছান। খালের স্বচ্ছ পানিতে ছড়ানো-ছিটানো পাথরের চাঁইয়ের ওপর বসে তাঁরা দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। চিড়া-গুড় খেয়ে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করেন। এবার তাঁদের লক্ষ্য ছিল পুকুরপাড়া। কিন্তু গাইডের অনুরোধে তাঁরা রাতে এনোংপাড়াতেই থেকে যান। সেখানে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল স্থানীয় খাবার: বাঁশ কোঁড়লের ভাজি, ডাল আর পাহাড়ি মুরগির ভুনা। খাবারের পর তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন ভোরে তাঁরা আবার যাত্রা শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে তাঁরা পুকুরপাড়া লেকে পৌঁছান। দুই পাহাড়ের মাঝে সরু পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা দেখতে পান টাইগার জোঁকের উপদ্রব। একজন অভিযাত্রী ভয়ে কেঁদে ফেলেন। অবশেষে তাঁরা পুকুরপাড়া লেকে পৌঁছান, যেখানে চারপাশে পাহাড় আর মাঝখানে বিশাল টলটলে পানির লেক তাঁদের বিস্মিত করে।
"পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য দেখার সুবর্ণ সময় বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তকাল। সেই পাহাড় যদি হয় তিন পার্বত্য জেলায়, তাহলে তো কথাই নেই। এই সময়গুলোতে পাহাড় তার রূপের ডালি মেলে ধরে। চারপাশে সবুজ আর সবুজ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটি জেলা, পার্বত্য অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ছয়জন অভিযাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!