📌 র্যাবকে বিলুপ্ত করে নতুন এসআরবি গঠনের সরকারি সিদ্ধান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বহাল থাকছে। পুরোনো বাহিনীর জনবল, সম্পদ ও ক্ষমতা স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন ইউনিটেও একই ধরনের সমস্যা রয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সবচেয়ে আলোচিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)কে বিলুপ্ত করে নতুন নাম ও কাঠামোয় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের সরকারি সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নামের আড়ালে পুরোনো ক্ষমতা ও দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বহাল থাকায় র্যাবের সংস্কারের পরিবর্তে তার পুনর্জন্ম ঘটছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, তহবিল ও সম্পত্তি সরাসরি এসআরবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে
- 📌 কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হলেও তাদের পুরোনো দায়িত্ব বহাল থাকবে
- 📌 এসআরবির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও ফৌজদারি তদন্তের অধিকার সম্প্রসারণ
- 📌 অভিযোগ প্রতিকার কমিটির চার সদস্য সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় এর স্বাধীনতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন
- 📌 র্যাবের মতো এসআরবিতেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন এবং গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে র্যাবকে বিলুপ্ত করার দাবি উঠেছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই দাবি উপেক্ষা করে র্যাবকে ‘বিলুপ্ত’ ঘোষণা করে নতুন নামে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো, সাইবার অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, পুরোনো বিতর্কিত কাঠামোকে নতুন নামে চালু করার যৌক্তিকতা কতটুকু।
নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা ও দায়িত্ব সরাসরি এসআরবিতে স্থানান্তরিত হবে। এমনকি র্যাবের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোও এসআরবির নামে অব্যাহত থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে, নতুন ইউনিটকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আদালত বা সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনার অধিকার। তবে এই ক্ষমতা সম্প্রসারণের আগে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
আইনের একটি ইতিবাচক দিক হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন, যার মাধ্যমে জনগণের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু কমিটির পাঁচ সদস্যের চারজনই সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় এর স্বাধীনতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া র্যাবের মতো এসআরবিতেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণের সুযোগ বহাল থাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
"পুরোনো কাঠামোর নাম পরিবর্তন করলেই সংস্কার সম্পন্ন হয় না। ক্ষমতা ও জবাবদিহির অভাব থাকলে নতুন নামেও একই সমস্যা থেকে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: র্যাবের জনবল ও ক্ষমতা সরাসরি এসআরবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!