📌 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানে বলেছেন, দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সমবায় সমিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি সমবায় আন্দোলনের পুনরুজ্জীবন ও প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানে আজ (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি সমবায় আন্দোলনের বর্তমান দুর্বল অবস্থা ও দুর্নীতির কারণে সমিতিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সতর্কতা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে বেশির ভাগ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি মাত্র সফলভাবে কাজ করছে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের ৯০% সমবায় সমিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, মাত্র কয়েকটি সফলভাবে কাজ করছে
- 📌 তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের সমবায় আন্দোলনকে গুরুত্ব দানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ষাটের দশকে পাকিস্তান থেকে ড. আখতার হামিদ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিলেন
- 📌 সমবায় আন্দোলনের পুনরুজ্জীবনের জন্য আইন সংশোধন, পণ্য বাজারজাতকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বৃদ্ধির আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি
- 📌 তিনি বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সমবায় সমিতিগুলোকে সক্ষম করতে হবে
- 📌 অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’
📰 বিস্তারিত
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমবায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এ আন্দোলন চলেছে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের সঙ্গে সমবায়কে সম্পৃক্ত করে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিলেন। তাঁকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। এতে সমবায় আন্দোলন অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি সমবায় উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সমবায় খাত আরও দ্রুত গতিশীল হবে। তবে তিনি সতর্কতা জানিয়ে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে সমবায় আন্দোলন একেবারে নিচের দিকে চলে গেছে। এখন আর আগের মতো এই আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব বা মনোযোগ দেখা যায় না।’
সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য রাষ্ট্রপতি আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা যেতে পারে, যারা এসব পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করবে।’
রাষ্ট্রপতি সমবায়ের মূল ধারণা হলো একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে।’
"আপনারা এখনো সমবায় আন্দোলনকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমবায় আন্দোলনকে আরও ব্যাপকভাবে দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস, ৮ নভেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!