📌 ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত তংসা বাজারে পাহাড়ি আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়। উদ্যোক্তা মাচসিং মারমা ২০২৫ সাল থেকে এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পাশাপাশি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে কাজ করছেন। বাজারে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গল ও শুক্রবার পণ্য বিক্রি হয়, যেখানে ক্রেতারা রাসায়নিকমুক্ত পাহাড়ি মুরগি, হাঁস ও মাছ কিনছেন
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ‘তংসা বাজার’ পাহাড়ি আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য বিক্রির একটি অনন্য উদ্যোগ। এই বাজারটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে পরিচালনা করছেন মাচসিং মারমা, যিনি নিজেই রাঙামাটির বাসিন্দা। ‘তংসা’ শব্দের অর্থ পাহাড়ি, এবং এই বাজারে ক্রেতারা পাহাড়ি দেশি মুরগি, হাঁস, কাপ্তাই হ্রদের মাছসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য পান। বাজারটি প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শুক্রবার খোলা থাকে, যেখানে ক্রেতারা নিজের হাতে পণ্য বাছাই করে কেনেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডে অবস্থিত ‘তংসা বাজার’ পাহাড়ি খাদ্যপণ্য বিক্রির একমাত্র বাজারগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গল ও শুক্রবার পণ্য বিক্রি হয়।
- 📌 উদ্যোক্তা মাচসিং মারমা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শুরুতে আর্থিক সংকটের কারণে শুরু হয়েছিল।
- 📌 বাজারে ক্রেতারা রাসায়নিকমুক্ত পাহাড়ি মুরগি, হাঁস ও কাপ্তাই হ্রদের মাছ কিনছেন, কারণ এগুলো পরিবারের সদস্যরা পছন্দ করেন।
- 📌 মাচসিং মারমা পাশাপাশি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে কাজ করছেন, যেখানে তিনি ইন্টার্নশিপ ও প্র্যাকটিস করছেন।
- 📌 বাজারটি শুরুতে ৭০ টাকার পণ্যও বিক্রি হয়নি, কিন্তু মাচসিং দমে যাননি এবং ‘স্টুডেন্ট বক্স’ ধারণা নিয়ে এলাকার শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পণ্য দেন।
📰 বিস্তারিত
মাচসিং মারমা ‘তংসা বাজার’ শুরু করার আগে ঢাকায় আসেন ২০২২ সালে। তিনি ফার্মগেটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, পরে চলে আসেন মোহাম্মদপুরে। বাজারটি শুরু করার সময় তিনি নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে দোকান খুলেছিলেন। তার স্বামী সানু চৌধুরী ফ্রিল্যান্সিং করতেন, কিন্তু ক্লায়েন্ট কমে যাওয়ায় পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েন। মাচসিং নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে দোকান খুলে বসেন এবং পরিবারের সহযোগিতা নেননি। তিনি বলেন, “আমি দেখতে চেয়েছিলাম নিজে কী করতে পারি।”
বাজারে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গল ও শুক্রবার পণ্য বিক্রি হয়। মাচসিং বাজারের দিনগুলো বেছে নিয়েছিলেন কারণ ছুটির দিনে ভিড় বেশি হয়। বাজারে ক্রেতারা নিজের হাতে পণ্য বাছাই করে কেনেন। মাচসিং জানান, বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চাকমা শিক্ষার্থী, বাঙালি পরিবার এবং খাগড়াছড়ি থেকে আসা ক্রেতারা। তারা বলেন, বাড়ি থেকে খাদ্যপণ্য আনতে পারেন না, তাই প্রতিদিনের ও সাপ্তাহিক চাহিদা মেটাতে তংসা বাজারই তাদের ভরসা।
মাচসিং মারমা বাজার পরিচালনার পাশাপাশি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী পূর্ণ সময় দিচ্ছেন দোকান দেখভালে, তাই আমি পেশা হিসেবে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।” তিনি ইন্টার্নশিপ করছেন বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের একটি স্কুলে এবং একই বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞের চেম্বারে প্র্যাকটিস করছেন।
"আমি দেখতে চেয়েছিলাম নিজে কী করতে পারি। একসময় আমার মাথায় আসে ‘স্টুডেন্ট বক্স’-এর ধারণা। বিক্রি না হওয়া, কিন্তু খাওয়ার উপযোগী পণ্যগুলো এলাকার আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে দিয়ে দিতে শুরু করি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাচসিং মারমা, সানু চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০টি পাহাড়ি পণ্যের বাজার ঢাকায়, ৭০ টাকা বিক্রি না হওয়া পণ্য, ৯ জন কর্মী (মাচসিংসহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!