📌 খাবার সংরক্ষণে প্লাস্টিক ব্যাপক ব্যবহৃত হলেও তা থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবারে মিশতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিকের তিন ধরনের আদান-প্রদান প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন
বর্তমান সময়ে খাবার সংরক্ষণ ও পরিবহনে প্লাস্টিকের ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। বাজারের সবজি থেকে শুরু করে কাঁচা মাংস বা রান্না করা খাবার পর্যন্ত প্রায় সবই প্লাস্টিকের মোড়কে রাখা হয়। এর মাধ্যমে খাবার জীবাণু ও বাতাস থেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি খাবারের পানি সহজে শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তবে এই প্লাস্টিকের মাধ্যমেই খাবারের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে খাবারের সংস্পর্শে থাকা প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান খাবারে মিশতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাবার সংরক্ষণে থার্মোপ্লাস্টিক শ্রেণির প্লাস্টিক ব্যবহারের পরামর্শ বিজ্ঞানীদের
- 📌 এলডিপিই শ্রেণির প্লাস্টিক খাবার মোড়ানোর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বলে বিবেচিত
- 📌 প্লাস্টিক ও খাবারের মধ্যে তিন ধরনের আদান-প্রদান প্রক্রিয়া ঘটে: শোষণ, মাইগ্রেশন ও পারমিয়েশন
- 📌 উচ্চ তাপমাত্রায় প্লাস্টিক থেকে খাবারে রাসায়নিক পদার্থ মিশে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি
📰 বিস্তারিত
খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারের সব ধরনের খাবারই এখন প্লাস্টিকের মোড়কে মুড়ে বিক্রি করা হয়। এর মাধ্যমে খাবার জীবাণু ও বাতাস থেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি খাবারের পানি সহজে শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, প্লাস্টিকের মাধ্যমে খাবারের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে খাবারের সংস্পর্শে থাকা প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান খাবারে মিশতে পারে।
প্লাস্টিককে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: থার্মোপ্লাস্টিক ও থার্মোসেট। থার্মোপ্লাস্টিক তাপে গলে যায় এবং ঠান্ডা হলে শক্ত হয়। এদের বারবার গলিয়ে নতুন আকার দেওয়া যায়। অন্যদিকে, থার্মোসেট একবার উত্তপ্ত হলে স্থায়ী আকার ধারণ করে। খাবার মোড়ানোর জন্য থার্মোপ্লাস্টিক শ্রেণির প্লাস্টিক বেশি উপযোগী বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বর্তমানে খাবার মোড়ানোর জন্য এলডিপিই শ্রেণির প্লাস্টিক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি হালকা ও নমনীয়। এলডিপিই প্লাস্টিক বাতাস ও জীবাণুর চলাচল ঠেকাতে পারে। ফলে খাবার দ্রুত শুকিয়ে যায় না। তবে প্লাস্টিক ও খাবারের মধ্যে সব সময়ই কিছু না কিছু আদান-প্রদান ঘটে। বিজ্ঞানীরা এই আদান-প্রদানকে তিনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: শোষণ, মাইগ্রেশন ও পারমিয়েশন।
শোষণ হলো খাবারের কোনো উপাদান প্লাস্টিকের মধ্যে ঢুকে পড়া। যেমন, খাবারের পানি অনেক সময় প্লাস্টিক শুষে নিতে পারে। আবার কিছু প্লাস্টিক খুব সহজেই চর্বির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে চর্বিযুক্ত খাবার রাখলে সেই চর্বিও প্লাস্টিকে ঢুকে যেতে পারে। এর ফলে খাবারের স্বাদ ও গঠনে পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে মাইগ্রেশন হলো প্লাস্টিকের উপাদান খাবারে চলে যাওয়া। প্লাস্টিক তৈরির সময় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যোগ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব রাসায়নিকের কিছু অংশ প্লাস্টিক থেকে বেরিয়ে খাবারে মিশতে পারে।
"প্লাস্টিক তৈরির সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ খাবারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রায় এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে। তাই খাবার গরম করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।"
পারমিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিকের ভেতর দিয়ে গ্যাস বা তরল এক দিক থেকে অন্য দিকে যেতে পারে। বাইরে থেকে অক্সিজেন খাবারে ঢুকতে পারে। আবার খাবারের ভেতরের কিছু উপাদান বাইরেও বেরিয়ে যেতে পারে। বাতাসে থাকা অক্সিজেন ঢুকে গেলে চর্বিযুক্ত খাবার নষ্ট হওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে র্যান্সিডিটি। ফলে খাবারে বাজে গন্ধ ও বিস্বাদ তৈরি হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!