📌 ফটিকছড়ির একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে অতিরিক্ত গ্যাস ভরার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, স্টেশনটিতে সর্বোচ্চ ১২ কেজির স্থলে ১৫-১৬ কেজি গ্যাস ভরা হচ্ছে। এছাড়া বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রির কারণে অনেকে সেখানে গ্যাস নিচ্ছেন
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হেঁয়াকো বেগবাজার এলাকায় অবস্থিত রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে নিয়মবহির্ভূতভাবে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে অতিরিক্ত গ্যাস ভরার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই স্টেশন থেকে সর্বোচ্চ ১২ কেজির স্থলে ১৫ থেকে ১৬ কেজি গ্যাস ভরা হচ্ছে। এছাড়া এই স্টেশন থেকে রিফিল করা গ্যাস বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাজ এলপিজি ফিলিং স্টেশনে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস রিফিলের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 স্টেশনটিতে সর্বোচ্চ ১২ কেজির স্থলে ১৫ থেকে ১৬ কেজি গ্যাস ভরা হচ্ছে বলে অভিযোগ
- 📌 রিফিল করা গ্যাস বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে বিক্রি করা হচ্ছে
- 📌 এলপিজি বিধিমালা, ২০০৪-এর বিধি ১০৮ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয়
- 📌 স্টেশনটির স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, সরকারের অনুমোদন নিয়ে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস রিফিল করা হচ্ছে। স্টেশনটির অবস্থান ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে। স্থানীয়দের মতে, স্টেশনটিতে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ কেজি গ্যাস ভরা হয়। তবে সেখানে ১৫ থেকে ১৬ কেজি পর্যন্ত গ্যাস ভরা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্টেশন থেকে রিফিল করা গ্যাস বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেকে সেখানে গ্যাস নিতে যান।
গত মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারে ৮০০ টাকার গ্যাস নিচ্ছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস ভরার জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা দিচ্ছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গ্যাস রিফিলের কাজে নিয়োজিত বিক্রয়কর্মী কামরুল হোসেন বলেন, ‘মালিক যেভাবে বিক্রি করতে বলেছেন, সেভাবেই বিক্রি করি। অনুমতিপত্র আছে কি না, সেটা জানি না।’
হেঁয়াকোর এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী শফিউল আলম ও আবু তাহের জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর স্টেশনটির মালিক আবুল কালাম আজাদকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি মানতে নারাজ। এলপিজি বিধিমালা, ২০০৪-এর বিধি ১০৮ অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত এলপিজি বিতরণ স্টেশন থেকে মোটরযান কিংবা অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনের সঙ্গে সংযুক্ত জ্বালানি ধারণপাত্র ছাড়া অন্য কোনো বহনযোগ্য পাত্রে এলপিজি ভর্তি করা যাবে না। আইন অমান্য করলে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
‘সরকারের যথাযথ অনুমোদন নিয়ে গ্যাস বিক্রি করছি। আমরা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করছি না। এলাকার অসহায়-গরিব মানুষের সহায়তার জন্য গ্যাস দিয়ে থাকি।’ — আবুল কালাম আজাদ, রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী
ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, ‘এ ধরনের কাজ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ইউএনও সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘এভাবে গ্যাস সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করার কোনো সুযোগ নেই। এটি একই সঙ্গে আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হেঁয়াকো বেগবাজার, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল কালাম আজাদ (স্টেশন মালিক), কামরুল হোসেন (বিক্রয়কর্মী), শফিউল আলম ও আবু তাহের (স্থানীয় ব্যবসায়ী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ কেজি (সর্বোচ্চ অনুমোদিত), ১৫-১৬ কেজি (অভিযোগকৃত), ৪০০-৫০০ টাকা (বাজারদরের ব্যবধান), ৮০০ টাকা (গ্যাসের দাম), ৫০ টাকা (অতিরিক্ত চার্জ), ৫০ হাজার টাকা (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!