📌 বাংলাদেশে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও ইউনেসকোর সহযোগিতামূলক প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আটটি প্রশাসনিক বিভাগে ৯৯ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগে চলমান প্রকল্পের লক্ষ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে হস্তান্তর
বাংলাদেশের অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকোর যৌথ উদ্যোগে ঢাকার কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এই বিষয়টি আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারের মূল বিষয় ছিল ‘কমিউনিটিভিত্তিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের কৌশল’।
- 📌 সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। লোকজ উৎসব ও নৌকাবাইচ সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পারে।
- 📌 ইউনেসকোর সহযোগিতায় ৯৯ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ‘ইমপ্লিমেন্টিং কমিউনিটিভিত্তিক হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালস’ প্রকল্পে আটটি প্রশাসনিক বিভাগে স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে।
- 📌 প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় শিল্পী ও কারুশিল্পীদের প্রশিক্ষণ, ঐতিহ্য নথিবদ্ধকরণ এবং প্রজন্মান্তরে জ্ঞান বিনিময় করা হচ্ছে।
- 📌 সেমিনারে ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস ও ড. সুজান ভাইজ স্থানীয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন সুপারিশ করেন।
📰 বিস্তারিত
সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি লোকজ উৎসব, নৌকাবাইচ ও লোকসংগীতের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। তিনি নতুন প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে তারা মাদকসহ নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে। মন্ত্রী সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে ইয়াসমিন বেগম মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকো বাংলাদেশের অফিসপ্রধান ও প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ এবং আন্তর্জাতিক অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গবেষক ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস।
সেমিনারে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকোর সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ইমপ্লিমেন্টিং কমিউনিটিভিত্তিক হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালস ইন এইট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিভিশনস অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে আটটি জনগোষ্ঠীর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে উৎসব ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এই দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের জন্য ৯৯ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রচার ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর।
সেমিনারে প্রকল্পের আওতাভুক্ত আটটি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যভিত্তিক উৎসব নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি হাজং ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে। সেমিনারের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট আসমা ফেরদৌসী। প্রকল্পের অংশীদার আটটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. সাইদুর রহমান এবং লেখক রিফাত মুনিম।
"সংস্কৃতির টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ইউনেসকো বাংলাদেশের অফিসপ্রধান ড. সুজান ভাইজ, গবেষক ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ অক্টোবর, ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ৯৯ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!