📌 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাস শতবর্ষ আগে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছিল। প্রকাশের পরপরই নিষিদ্ধ হওয়া এই বইটি কীভাবে হয়ে উঠেছিল ঔপনিবেশিক সরকারের দুঃস্বপ্নের কারণ?
শতবর্ষ আগে প্রকাশিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবী' শুধু সাহিত্যের ইতিহাসেই নয়, রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে ওঠা এই উপন্যাস প্রকাশের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। শত বছর পরেও এর রাজনৈতিক প্রভাব ও সাহিত্যিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ৩১ আগস্ট ১৯২৬ সালে
- 📌 প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই তিন থেকে পাঁচ হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়
- 📌 ৪ জানুয়ারি ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার উপন্যাসটি বাজেয়াপ্ত করে
- 📌 উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী মল্লিককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম 'সুপারম্যান' চরিত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়
- 📌 লেখক নিজেই উপন্যাসটির পাণ্ডুলিপি ফেলে রেখেছিলেন, পরে উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এটি প্রকাশিত হয়
📰 বিস্তারিত
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৬ সালের ৩১ আগস্ট। ভারত তখন ব্রিটিশ শাসনের অধীন। উপন্যাসটির বিষয়বস্তু ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। বিপ্লবী তৎপরতা ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া জাগায়। প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই তিন থেকে পাঁচ হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়।
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী মল্লিক একজন বিপ্লবী। চিকিৎসা ও প্রকৌশলবিদ্যায় পারদর্শী এই চরিত্রটি ছদ্মবেশে পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলতে সক্ষম। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম 'সুপারম্যান' চরিত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। গবেষক তনিকা সরকার তাঁর গবেষণায় এই মত প্রকাশ করেছেন।
উপন্যাসটির রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে ব্রিটিশ সরকার প্রকাশের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এটি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯২৭ সালের ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে 'পথের দাবী' উপন্যাসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অভিযোগ ছিল, উপন্যাসটি পাঠকের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।
উপন্যাসটির প্রকাশনা প্রক্রিয়া ছিল বেশ জটিল। লেখক নিজেই প্রাথমিকভাবে পাণ্ডুলিপিটি ফেলে রেখেছিলেন। পরে উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামক এক ব্যক্তি এটি বঙ্গবাণী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের জন্য গ্রহণ করেন। বঙ্গবাণীর দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সংখ্যা থেকে (১৩২৯ বঙ্গাব্দ) উপন্যাসটির প্রকাশ শুরু হয়। শেষ কিস্তি প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখে, অর্থাৎ ১৯২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে।
"ইংরাজশক্তির এই বই বাজেয়াপ্ত করবার জাস্টিফিকেশন যদি থাকে, পরাধীন ভারতবাসীর প্রোটেস্ট করবার জাস্টিফিকেশনও তেমনি আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ (আগস্ট), ৪ (জানুয়ারি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!