📌 ১৯৯৩ সালে সুভাষ ঘাই পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘খলনায়ক’ মুক্তির আগে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ‘চোলি কে পিছে’ গানকে কেন্দ্র করে আদালত পর্যন্ত গড়ায় মামলা। একই সময়ে সঞ্জয় দত্তকে গ্রেপ্তার করা হলে চলচ্চিত্রটির প্রচারণা থমকে যায়।
১৯৯৩ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে আলোড়ন তুলেছিল সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘খলনায়ক’। চলচ্চিত্রটির মুক্তির আগে একাধিক বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপ ও আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল নির্মাতাদের। বিশেষ করে ‘চোলি কে পিছে’ গানটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সম্প্রতি সুভাষ ঘাইয়ের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সেই সময়ের ঘটনাবলি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘খলনায়ক’ চলচ্চিত্রটির মুক্তির আগে ‘চোলি কে পিছে’ গানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়
- 📌 বিভিন্ন নারী সংগঠন ও সামাজিক গোষ্ঠী গানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায়
- 📌 আদালত গানটি নিষিদ্ধ না করলেও চলচ্চিত্রটির প্রচারণা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- 📌 ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের তদন্তে সঞ্জয় দত্তকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়
- 📌 গ্রেপ্তারের পর চলচ্চিত্রটির প্রধান অভিনেতা কারাগারে থাকায় প্রচারণা প্রায় থমকে যায়
📰 বিস্তারিত
১৯৯৩ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে একাধিক ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা হামলার রেশ তখনো কাটেনি। সেই সময়েই মুক্তির অপেক্ষায় ছিল সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘খলনায়ক’। চলচ্চিত্রটির নির্মাণকালীন সময়ে সেন্সর, নৈতিকতা ও রাজনীতিকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক দেখা দেয়। বিশেষ করে ‘চোলি কে পিছে’ গানটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। বিভিন্ন নারী সংগঠন ও সামাজিক গোষ্ঠী গানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, অভিযোগ করা হয় গানটি নারীদের অবমাননা করছে এবং অশ্লীলতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।
এই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ছবি মুক্তির আগের দিনগুলোতে নির্মাতারা জানতেন না আদালতের সিদ্ধান্ত কী হবে। সুভাষ ঘাই পরে স্মরণ করেন, তিনি মনে করেছিলেন, যদি আদালত গানটির বিরুদ্ধে রায় দেন, তাহলে পুরো ছবির মুক্তিই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আদালত অবশ্য গানটি নিষিদ্ধ করেননি। এই সিদ্ধান্ত শুধু ‘খলনায়ক’-কেই রক্ষা করেনি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রে শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তও তৈরি করেছিল।
এই বিতর্কের সময় মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বাল ঠাকরে। সুভাষ ঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাল ঠাকরের সঙ্গে দেখা করলে ঠাকরে পুরো বিতর্ককে হালকাভাবে উড়িয়ে দেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য ছিল—‘চোলির পেছনে যা আছে, তা তো চোলির পেছনেই আছে।’ তাঁর এই অবস্থানের ফলে মহারাষ্ট্রে ছবিটি ঘিরে বড় ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
এর মধ্যেই আসে আরও বড় ধাক্কা। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের তদন্তে সঞ্জয় দত্তকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে টাডা আইনও প্রয়োগ করা হয়েছিল। হঠাৎ করেই ছবির প্রধান অভিনেতা কারাগারে। এতে ছবির প্রচারণা প্রায় থমকে যায়। সংবাদমাধ্যমে ছবির গল্পের চেয়ে বেশি আলোচনা হতে থাকে সঞ্জয় দত্তের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল, ‘খলনায়ক’-এ সঞ্জয় দত্ত অভিনয় করেছিলেন বল্লু নামের এক পলাতক অপরাধীর চরিত্রে। বাস্তবেও তখন তিনি পুলিশের হেফাজতে। ফলে সিনেমা ও বাস্তব যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়।
"আমি মনে করেছিলাম, যদি আদালত গানটির বিরুদ্ধে রায় দেন, তাহলে পুরো ছবির মুক্তিই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।"
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ‘খলনায়ক’-এর চারপাশের বিতর্ক ছবিটির প্রতি সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। গানটি নিয়ে আপত্তি, আদালতের মামলা, সঞ্জয় দত্তের গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির আগেই দেশের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়। তবে এটাও সত্য, বিতর্ক দিয়ে দর্শককে হলে আনা গেলেও ছবিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য দিতে পারে শুধু ভালো নির্মাণ। সেই পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছিল ‘খলনায়ক’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুভাষ ঘাই, সঞ্জয় দত্ত, বাল ঠাকরে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!