📌 গোপালগঞ্জের জালালাবাদ ইউনিয়নে স্বামী ও শ্বশুর জোর করে বিষ খাওয়ানোর ঘটনায় গৃহবধূ মুসলিমা খানমের মৃত্যুর পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মৃত্যুর বিচারের দাবিতে আজ মানববন্ধন হয় যেখানে মুসলিমার পরিবার অভিযোগ তুলে ধরেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে পারিবারিক কলহে গৃহবধূ মুসলিমা খানমকে জোর করে বিষ খাওয়ানোর ঘটনায় তাঁর স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ২৭ আগস্ট রাতে ঘটনাস্থলে মুসলিমার মৃত্যু ঘটে এবং আজ শনিবার তার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ আগস্ট রাতে গোপালগঞ্জের বড়ফা গ্রামে গৃহবধূ মুসলিমা খানমকে জোর করে বিষ খাওয়ানোর পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
- 📌 মৃত্যুর বিচারের দাবিতে আজ সাড়ে ১১ টা বেলায় মানববন্ধনে শতাধিক স্থানীয় অংশ নিয়েছেন।
- 📌 মুসলিমার পরিবার অভিযোগ করেছে, স্বামী ও শ্বশুর তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দিতে বাধ্য করতেন এবং নির্যাতন করতেন।
- 📌 ঘটনাস্থলে ১৫-২০ জন স্থানীয় লোক তাদের পালানোর চেষ্টা রোধ করে।
📰 বিস্তারিত
২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে বড়ফা গ্রামে পারিবারিক কলহে মুসলিমা খানমকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কুরবান মোল্লা ও নুরুজ্জামান মোল্লা জোর করে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেন। মুসলিমা অচেতন হয়ে পড়লে তাঁরা একটি ভ্যানে করে তাঁকে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে উঠানে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় রিকু মোল্লা ও কিচমত মোল্লাসহ ১৫-২০ জন তাঁদের গতি রোধ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কুরবান ও নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।
মৃত্যুর পর মুসলিমাকে প্রথমে গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মানববন্ধনে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম, ভাই জুয়েল মোল্লা, প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদারসহ বক্তব্য দেন। মুসলিমা ছিলেন বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। ২০১৪ সালে তিনি একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে বিয়ে করেন।
"বিয়ের পর থেকেই কুরবান যৌতুকের জন্য আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। আমাদের পরিবার তাঁকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছি। ২০২২ সালে আমি যৌতুক নিরোধ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছি। কিন্তু পরে আবারও নির্যাতন শুরু হয়।" — মর্জিনা বেগম, মুসলিমার মা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বড়ফা গ্রাম, জালালাবাদ ইউনিয়ন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুসলিমা খানম (মৃত), কুরবান মোল্লা, নুরুজ্জামান মোল্লা, মর্জিনা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ আগস্ট (ঘটনা), ১১ টা (মানববন্ধন), ১৫-২০ জন (স্থানীয় লোক), ২৫০ শয্যা (হাসপাতাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!